আগামী দুই মাসের মধ্যে বাংলাদেশ থেকে ২৪১৫ জন রোহিঙ্গাকে ফিরিয়ে নিতে প্রক্রিয়া শুরু করবে মিয়ানমার। রোববার ঢাকায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কনফারেন্স রুমে মিয়ানমারের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী উ থান্ট কাইয়ুয়ের সঙ্গে বৈঠক শেষে এ কথা জানান পররাষ্ট্র সচিব শহিদুল ইসলাম।
সম্প্রতি দেশটির সীমান্তরক্ষীদের হাতে বিজিবি সদস্য নিহতের পর প্রায় দশ বছর পর সীমান্ত নিরাপত্তা ও রোহিঙ্গা ইস্যু রাষ্ট্রীয় আলোচনায় গুরুত্ব পায়।
এ বিষয়ে মিয়ানমারের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী উ থান্ট কাইয়ু চারদিনের সফরে এসে রোববার পররাষ্ট্র সচিব শহিদুল হকের সঙ্গে বৈঠক করেন।
সকাল ১০টায় বৈঠক শুরু হয়। বৈঠকে নেতৃত্ব দেন বাংলাদেশের পক্ষে পররাষ্ট্র সচিব এবং মিয়ানমারের পক্ষে নেতৃত্ব দেন দেশটির উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী উ থান্ট কাইয়ু।
একই সঙ্গে সীমান্তে নিরাপত্তা, হামলা ও হত্যা বন্ধ, সমুদ্রসীমাসহ অমীমাংসিত বিষয়গুলো সমাধানে ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রসচিব শহিদুল হক।
সচিব জানান, কক্সবাজারের কুতুপালং ও নয়াপাড়া ক্যাম্পে ২ লাখ ৩২ হাজার শরণার্থী রয়েছে। এর মধ্যে ২০ হাজার রোহিঙ্গাকে নিজেদের নাগরিক হিসেবে স্বীকার করে কয়েক বছর আগে স্বদেশে ফিরিয়ে নিতে রাজি হয় মিয়ানমার।
কিন্তু অনুকূল পরিবেশ নেই দাবি করে ওই শরণার্থীদের ফিরিয়ে নেয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেনি তারা। বৈঠকে বাংলাদেশ মিয়ানমারের কাছে এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট সময়সীমা চাওয়া বলে জানান তিনি।
এছাড়া দুদেশের কারাগারে বন্দি নাগরিকদের বিনিময়, সীমান্ত নিরাপত্তা সংলাপ, বঙ্গোপসাগরে যৌথভাবে তেল-গ্যাস আহরণের ব্যাপারেও বাংলাদেশ, মিয়ানমারকে একটি প্যাকেজ প্রস্তাব দিয়েছে বলে জানান পররাষ্ট্রসচিব।
তিনি আরও বলেন, আগামী বছর পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ে সফর রয়েছে, সেখানে এসব বিষয়ে নতুন করে বেশ কিছু চুক্তি হতে পারে।
এটা বাংলাদেশ-মিয়ানমারের কর্মকর্তা পর্যায়ের অষ্টম বৈঠক।
এর আগে ২০১০ সালে রোহিঙ্গা ফিরিয়ে নেয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়। তবে জুন মাসে রাখাইন রাজ্যে জাতিগত সংঘাতের ফলে এ প্রক্রিয়া থেমে যায়। এছাড়াও বৈঠকে শান্তিপূর্ণ সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, ইয়াবা চোরাচালান বন্ধসহ অমীমাংসীত বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়।
কক্সবাজারের দুইটি শরণার্থী শিবিরে মোট ৩০ হাজার তালিকাভূক্ত রোহিঙ্গা রয়েছে। আর কক্সবাজার ও বান্দরবান এলাকা মিলে প্রায় ৫ লাখ অতালিকাভুক্ত অনু্প্রবেশকারী রোহিঙ্গা রয়েছে।
এদিকে, গত শুক্রবার মিয়ানমারের সরকার নতুন আদমশুমারির ফলাফল ঘোষণা করেছে। সেখানে দেখা গেছে, ১৯৮৩ সালের পর মিয়ানমারের মানুষ কমেছে প্রায় ৯০ লাখ, ওই সময় ৬ কোটি মানুষ ছিল। এখন মিয়ানমারের লোক সংখ্যা ৫ কোটি ১০ লাখ।
রাখাইন প্রদেশের মুসলিম সম্প্রদায়ে রোহিঙ্গা ও কোচিন প্রদেশের জাতিগত বিদ্রোহীদের আদমশুমারিতে অন্তর্ভূক্ত করা হয়নি।
রোহিঙ্গাদের বাদ দেয়ার বিষয়ে দেশটি জানিয়েছে, তারা মিয়ানমারের বৈধ নাগরিক নয়। তারা জাতিতে বাঙালি, তারা বাংলাদেশ থেকে মিয়ানমারে এসেছে।
রোহিঙ্গা শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশন-আরআরআরসি তথ্য অনুযায়ী বাংলাদেশে শরণার্থীর সংখ্যা প্রায় পাঁচ লাখ। এর মধ্যে কক্সবাজারের কুতুপালং ও নয়াপাড়া শিবিরে নিবন্ধিত প্রায় ২ লাখ ৩২ হাজার শরণার্থী রয়েছে। এসব শরণার্থী বাংলাদেশের ওপর অর্থনৈতিক চাপ তৈরির পাশাপাশি জড়িয়ে পড়ছে বিভিন্ন অপরাধে। বাংলাদেশ থেকে তাদের ফিরিয়ে নেওয়ার বিষয়ে নানা উদ্যোগের ফলে প্রায় আড়াই লাখ রোহিঙ্গাকে ফিরিয়ে নেয় মিয়ানমার। তবে ২০০৫ সালের পর থেকে বন্ধ হয়ে যায় সে প্রক্রিয়া।