শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে এমপিওভুক্ত করতে সুষ্ঠু নীতিমালা প্রণয়ন করতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে তাগিদ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। রোববার সচিবালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় পরিদর্শন শেষে কর্মকর্তাদের তিনি এ কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, সুষ্ঠু নীতিমালা হলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তিকরণের ক্ষেত্রে তদবির বন্ধ হবে।
দেশের একটি মানুষও যাতে নিরক্ষর না থাকে সেজন্য মন্ত্রণালয়ের প্রতি নির্দেশও দেন শেখ হাসিনা।
বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থার বিভিন্ন দিক নিয়ে তিনি বলেন, জাতীয় শিক্ষানীতি বাস্তবায়নের পাশাপাশি শিক্ষিত জাতি গড়তে কাজ করে যাচ্ছে সরকার।
এ সময় জোট সরকারের শাসনামলে শিক্ষারমানেরও সমালোচনা শেখ হাসিনা বলেন, ‘৪৫ ভাগ থেকে প্রায় ৬৫.৫ ভাগে আমরা আমাদের স্বাক্ষরতা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছি। অবশেষে বাংলাদেশকে ইউনেসকো পুরষ্কারও দিয়েছে। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের বিষয় যে ২০০১ সালে বিএনপি যখন ক্ষতায় আসে তখনই এর অগ্রগতি থেমে যায়।’
তিনি বলে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মান বাড়াতে প্রতিটি জেলায় একটি করে সরকারি বা বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা হবে।
শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির নীতিমালার দিকেও মনোযোগ দিতেও মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যেখানে প্রয়োজন নেই সেখানেও দেখা গেল ১০টি স্কুলকেই এমপিও করা হচ্ছে। আর যেখানে সব থেকে বেশি প্রয়োজন সেখানে একটাও হচ্ছে না কারণ তদবির করতে পারছে না। খালি এমপিওভুক্ত এখন ২টি করবো পরে আরো ৪টি করবো, এভাবে না করে বরং একটি সুষ্ঠু নীতিমালার ভিত্তিতে কোনো এলাকায় কয়জন ছাত্র-ছাত্রী, কয়টি স্কুল আমাদের দরকার, কয়জন শিক্ষক দরকার এটা দেখতে হবে। আর দরকার হলে আমরা সমস্ত খরচ দেব।’
দক্ষ জনবল তৈরি করতে কারিগরি শিক্ষা ব্যবস্থায় সরকারের নেয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা তুলে ধরে মাদ্রাসা শিক্ষাকে সরকার আধুনিকায়ন করবে বলেও জানান শেখ হাসিনা।
তিনি বলেন, ‘মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যবস্থাকে আধুনিকায়ন করে করা হচ্ছে, যা সব চেয়ে বেশি প্রয়োজন। কারণ প্রত্যেকটি শিক্ষা ব্যবস্থার আধুনিকায়ন প্রয়োজন। তবে মাদ্রাসা শিক্ষার কারিক্যুলামটা আপনাদের (শিক্ষা মন্ত্রণায়ের কর্মকর্তা) ঠিক করে দিতে হবে। কারণ তাদের (মাদ্রাসা শিক্ষা) শিক্ষার কারিক্যুলাম থাকার পাশাপাশি আধুনিক শিক্ষাটাকেও সামনে নিয়ে আসতে হবে।’