ভারত ও মিয়ানমারের সঙ্গে বিরোধপূর্ণ সমুদ্রসীমার নিষ্পত্তির মধ্য দিয়ে বঙ্গোপসাগরে বাংলাদেশের নিরঙ্কুশ সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। নিশ্চিত হয়েছে বাংলাদেশের সমুদ্র মানচিত্র। এরইমধ্যে আবেদন করা হয়েছে জাতিসংঘের মহীসোপান সীমানির্ধারক কমিশনে।
তবে প্রায় সোয়া লাখ হাজার বর্গ কিলোমিটার সমুদ্র অঞ্চলের সম্পদ আহরণে দেশে এখনো পর্যন্ত কোনো সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা নেই। তাই দেশের অর্থনীতির জন্য সহায়ক এই সম্পদ আহরণের কর্মকৌশল নির্ধারণের জন্য সোমবার থেকে ঢাকায় শুরু হচ্ছে দু দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক সম্মেলন।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মেরিটাইম অ্যাফেয়ার্স ইউনিটের প্রধান অতিরিক্তি সচিব খুরশেদ আলম দেশ টিভিকে জানিয়েছেন, সমুদ্র সম্পদ আহরণে অভিজ্ঞ দেশগুলোর কাছ থেকে পরামর্শ নিয়ে কর্মকৌশল ঠিক করার পাশাপাশি বাংলাদেশ কিভাবে সমুদ্র সম্পদ ব্যবস্থাপনায়- সাফল্য লাভ করতে পারে তা নির্ধারিত হবে।
ভারত ও মিয়ানমারের সঙ্গে সমুদ্রসীমার বিরোধ নিষ্পত্তি হওয়ায় বাংলাদেশ এক লাখ ১৮ হাজার বর্গকিলোমিটার সমুদ্র অঞ্চল, ২০০ নটিক্যাল মাইলের একচ্ছত্র অর্থনৈতিক অঞ্চল এবং চট্টগ্রাম উপকূল থেকে ৩৫৪ নটিক্যাল মাইল পর্যন্ত মহীসোপানে অবস্থিত সব ধরনের প্রাণিজ ও অপ্রাণিজ সম্পদের ওপর সার্বভৌম অধিকার পেয়েছে।
তবে এই বিপুল সম্পদ আহরণে বাংলাদেশের কোনো প্রস্তুতি নেই। নেই যথাযথ সরঞ্জাম ও দক্ষ লোকবলও বলে জানান অতিরিক্ত পররাষ্ট্র সচিব রিয়ার অ্যাডমিরাল খুরশেদ আলম বলেন।
বিপুল পরিমাণ অর্থনৈতিক সমুদ্র অঞ্চলকে ব্যবহার করে দেশের অর্থনীতিকে সমৃদ্ধ করতে সমুদ্রমাতৃক বাংলাদেশ গড়ে তোলার ওপর জোর দিচ্ছে সরকার। আর সেই লক্ষ্যেই ভারত, চীন, যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়াসহ ২০টি দেশের বিশেষজ্ঞদের অংশগ্রহণে সোমবার থেকে শুরু হচ্ছে ‘ব্লু ওশান ইকোনমি’ নিয়ে আন্তর্জাতিক কর্মশালা বলে জানান রিয়ির অ্যাডমিরাল খুরশেদ আলম।
তেল গ্যাস অনুসন্ধান ছাড়া খনিজ ও সামুদ্রিক মৎস্য সম্পদ আহরণের মাধ্যমে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে নতুন মাত্রা যোগ হবে বলে মনে করেন এই অতিরিক্ত সচিব।
তিনি বলেন, এর ফলে সূচিত হবে উন্নয়নের দিগন্তে নবতর অভিযাত্রা।