ঊচ্চ আদালতে বিচারকদের অপসারণের ক্ষমতা সংসদের হাতে ফিরিয়ে দিতে সংবিধান সংশোধন করার আগে জাতীয় সংলাপ করা প্রয়োজন বলে মনে করেন সংবিধান প্রেণেতা ড. কামাল হোসেন।
সোমবার জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশন শুরু হয়েছে। জানা গেছে, এ অধিবেশনেই বিচারপতিদের অভিশংসন ক্ষমতা সংসদের হাতে ফিরিয়ে নেয়ার বিলটি পাস হবে। এর আগে মন্ত্রিসভায় এটি পাস হয়।
সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবে সুশাসনের জন্য নাগরিক-সুজন আয়োজিত 'সংবিধানের সংশোধন, বিচারপতিদের অভিশংসন ও এর তাৎপর্য' শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে এ কথা বলেন তিনি।
বিচার বিভাগের ওপর 'আঘাত' করা মানে সংবিধানের ওপর 'আঘাত' করা- এ কথা উল্লেখ করে ড. কামাল বলেন, ভারতের সংবিধান ও গণতন্ত্রের বয়স ষাট-সত্তর বছর হয়েছে। আমাদের সংবিধানের বয়স ৪২ বছর পার হয়েছে।
তিনি বলেন, গণতন্ত্র শুধু সংখ্যাগরিষ্ঠের শাসন নয়। চার মিনিটে যেভাবে ঢাকা সিটি করপোরেশনকে দুই ভাগ করা হয়েছে, আমরা সেই গণতন্ত্রের হাতে সংবিধান সংশোধন করতে দিতে পারি না। সংবিধান সংশোধন করতে হলে জনগণকে জানাতে হবে।
তিনি আর বলেন, দীর্ঘ ৪২ বছরে ভালমন্দ অভিজ্ঞতা অর্জন করেছি, সংবিধান সংশোধনের আগে জেলায় জেলায় সংলাপ করে সকলের মতামত নিতে হবে আর সেই সংলাপ থেকে একটা ঐক্যমত বেরিয়ে আসবে। এরপর সংবিধান সংশোধনের জন্য হাত দেয়া উচিত।
এ সময় বক্তারা বলেন, বিচারপতিদের দায়বদ্ধতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতের আগে সংসদ সদস্যদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে।
তারা বলেন, সাংবিধানিক সংস্থাগুলোর স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করা হলে রাষ্ট্রের ভারসাম্য নষ্ট হবে। বিচারপতিদের অভিশংসনের ক্ষমতা সংসদে ফিরিয়ে দেয়ার সরকারি উদ্যোগ বিষয়ে তারা এ কথা বলেন।
আইন বিশেষজ্ঞরা সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলকে কীভাবে আরো যুগোপযোগী করা যায় সে বিষয়ে আরও আলোচনার প্রয়োজন রয়েছে বলে মত দেন তারা।
সরকারের এ ধরনের পদক্ষেপকে অগণতান্ত্রিক উল্লেখ করে তরিঘড়ি করে এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত না নিয়ে আরও বেশি আলোচনার ওপর জোর দেন বক্তরা।