বাংলাদেশে বন্দি ভারতীয় বিচ্ছিন্নতাবাদী উলফা নেতা অনুপ চেটিয়াকে দেশে (ভারত) পাঠাতে সরকার প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র সচিব মোজাম্মেল হক খান। একইসঙ্গে নারায়ণগঞ্জে সাত খুন মামলার প্রধান আসামী নূর হোসেনকে ফেরত পাঠানোর ব্যাপারেও ভারত আন্তরিক বলে জানিয়েছেন তিনি। বুধবার রাজধানীতে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ-ভারতের স্বরাষ্ট্র সচিব পর্যায়ের বৈঠকে এসব বিষয়ে আলোচনা করেন তিনি।
বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্র সচিব মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক খান এবং ভারতের স্বরাষ্ট্র সচিব অনিল গোস্বামীর নেতৃত্বে এ বৈঠকে বন্দি বিনিময়ের বিষয়টি প্রাধান্য পায়।
বাংলাদেশ-ভারতের স্বরাষ্ট্র সচিব পর্যায়ের বৈঠকের দ্বিতীয় দিনে দুই দেশের স্থল সীমানা নির্ধারণ, সীমান্তে নিরাপত্তা, গোলাগুলি ও হত্যা বন্ধ, মাদক ও মানবপাচার বন্ধে যৌথভাবে কাজ করতে একমত হয় দুই দেশ।
তিনি বলেন, সেইসঙ্গে স্থল সীমানা নির্ধারণ চুক্তির ইস্যুটি রাজ্যসভায় তোলার আশ্বাস দিয়েছে ভারত।
স্বরাষ্ট্র সচিব মো. মোজাম্মেল হক খান বলেন, ‘অনুপ চেটিয়া এক সময় আমাদের এখানে রাজনৈতিক আশ্রয় চেয়ে ছিল। সে এখন তার দেশে (ভারত) ফেরত যেতে চায়। আমরা এ ব্যাপারে আন্তরিক তবে আমাদের তরফ থেকে বক্তব্য যে, নূর হোসেন ও অন্যদের বিচারের জন্য আমাদের দেশে ফিরিয়ে আনতে, এগুলো আমারা তাদের বলেছি। আমরা উভয় পক্ষই এ ব্যাপারে ইচ্ছা প্রকাশ করেছি, তাদের তরফ থেকে কোনো আপত্তি নেই। তাই আমরা চেষ্টা করবো পদ্ধতি অনুসরণ করে ফিরিয়ে আনাতে।’
তিনি আরো বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু হত্যাকারীদের ব্যাপারে আমাদের কথা আগের মতোই ছিল। যদি আমাদের কোনো কিলার যদি ভারতে থাকে তাহলে অতীতের মতো আমাদের সহায়তা করে যাবে। আগামীতেও সেটা অব্যাহত রাখবে।’
দুদেশের মধ্যে বহু প্রতিক্ষিত মুজিব-ইন্দিরা চুক্তি বা স্থল সীমানা নির্ধারণ চুক্তির ইস্যুর বিষয়ে সচিব বলেন, এ বিষয়ে আবারো তাগাদা দিয়েছে ঢাকা। আগামী রাজ্যসভায় এ প্রস্তাব তোলার আশ্বাস দিয়েছে ভারত।
এ বিষয়ে তিনি আরো বলেন, ‘তারা (ভারত) এ ব্যাপরে নিশ্চিত করেছে যে পরবর্তি রাজ্য সভায় এটাকে উপস্থাপন করবে এবং এটার সহজ নিষ্পত্তি হয়ে যাবে। যে আমাদের অনেক দিন ধরে অপেক্ষা মান ছিল।’
এছাড়াও ৩ দিনব্যাপী বৈঠকে মাদক পাচার, চোরাচালান, মানবপাচার রোধে ব্যবস্থা নেয়ার পাশাপাশি সন্ত্রাস দমনে আরো জোরালোভাবে কাজ করার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
বৈঠকের শেষদিন বৃহস্পতিবার এ সংক্রান্ত একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের কথা রয়েছে।