সফররত জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবে রোববার কলম্বোর উদ্দেশে ঢাকা ছেড়েছেন। সকাল সাড়ে ১০টায় আবে ও তার সফরসঙ্গীদের বহনকারী বিশেষ বিমানটি হযরত শাজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ছেড়ে যান। এ সময় পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী আবেকে বিদায় জানান।
সকালে ঢাকা ছাড়ার আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা ইন্সটিটিউট পরিদর্শন করেন জাপানি প্রধানমন্ত্রী।
তার এ সফরে প্রধানমন্ত্রী ছাড়াও রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ, বিরোধীদলীয় নেতা রওশন এরশাদ ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন তিনি।
জাপানের কোনো প্রধানমন্ত্রী হিসেবে এক যুগেরও বেশি সময় পর বাংলাদেশ সফরে আসেন শিনজো আবে।
গতকাল শেখ হাসিনার টোকিও সফরের চার মাসের মধ্যে নিজের ঢাকা সফরের কথা তুলে ধরে আবে বলেন, এ বছরটি বাংলাদেশ ও জাপানের জন্য স্মরণীয় হয়ে থাকবে। এর মধ্য দিয়ে দুই দেশের সহযোগিতাপূর্ণ সম্পর্ক নতুন মাত্রায় উন্নীত হল।
ওইদিন নিরাপত্তা পরিষদের অস্থায়ী সদস্য পদে নির্বাচনে জাপানকে সমর্থন করে বাংলাদেশের প্রার্থিতা প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
বাংলাদেশে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন আবে। বাংলাদেশের অবকাঠামো উন্নয়নে আগামী ৪-৫ বছরে প্রায় ৬০০ কোটি ডলার সহায়তা দেয়ার প্রতিশ্রুতি পূরণেরও আশ্বাস দেন আবে। দুই দেশের শীর্ষ বৈঠকের পর ১০ পৃষ্ঠার এক যৌথ বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেন হাসিনা ও আবে।
দুই প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকে দুই দেশের ভিসা প্রক্রিয়া সহজ করা নিয়েও আলোচনা হয়েছে। এতে বাংলাদেশি কূটনীতিকদের জাপানে ভিসা ছাড়াই যাওয়ার সুযোগ পাওয়ার ইঙ্গিত মিলেছে।
গত মে মাসে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর টোকিও সফরের সময় দুই দেশের মধ্যে যে ‘সমন্বিত অংশীদারিত্বের’ সূচনা হয়েছিল তার ভিত্তিতে বাংলাদেশ ও জাপানের অংশীদারিত্ব অব্যাহত থাকবে বলে আশা প্রকাশ করেন শেখ হাসিনা।
আর মন্দাক্রান্ত জাপানি অর্থনীতিকে চাঙা করতে আবে যে নীতি গ্রহণ করেছেন, তা ‘আবেনোমিকস’ নামে পরিচিতি পেয়েছে বলে জানান আবে।
কক্সবাজারের মাতারবাড়ীতে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণে সহায়তা দিচ্ছে জাপান। বঙ্গোপসাগরের তীরে বিশেষ অর্থনৈতিক এলাকা (বে অফ বেঙ্গল ইন্ডাস্ট্রিয়াল গ্রোথ বেল্ট-বিগ বি) প্রতিষ্ঠাই বাংলাদেশকে সহযোগিতার অগ্রাধিকারে রাখার প্রতিশ্রুতিও দেন আবে।