ভরা বর্ষা মৌসুমেও রাজধানীর কিছু কিছু এলাকায় তীব্র পানি সংকট দেখা দিয়েছে। যেটুকু পানি আসে তাও ময়লা, দুর্গন্ধযুক্ত। ফোটানোর পরও পানি থেকে দুর্গন্ধ দূর হয় না বলে জানালেন এসব এলাকার বাসিন্দারা। এ দূষিত পানি ব্যবহারের ফলে ডায়েরিয়া আর চর্ম রোগ ছড়িয়ে পড়ছে।
ওয়াসা কর্তৃপক্ষ বলছেন, সরবরাহ লাইনে অবৈধ সংযোগ, অপরিকল্পিত সুয়ারেজ সিস্টেম আর নদীর পানির অতিরিক্ত দূষণের কারণে এ সমস্যা হতে পারে।
খিঁলগাও, তিলপাপাড়া, শান্তিপুর, মুগদা, মালিবাগ চৌধুরী পাড়াসহ রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় পানির তীব্র সংকট। আর সরবারাহের লাইনে যখন পানি আসছে তা দুর্গন্ধ আর ময়লাযুক্ত। এ পানি ফুটিয়ে পা করতেও ভরসা পাচ্ছেন না এলাকাবাসী। তাই সুপেয় পানির জন্য এখন বোতলজাত পানিই ভরসা তাদের।
এদিকে, পুরান ঢাকার শাঁখারী বাজার, তাঁতীবাজার, ইসলামপুর, আরমানিটোলা, নারিন্দা, শশী মোহন বসাক লেন, টিকাটুলি, ডেমরা এলাকায়ও পানি নিয়ে একই সমস্যা। পানির কারণে ডায়েরিয়া ও চর্মরোগে আক্রান্ত হচ্ছেন অনেকেই।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় ঢাকার বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ডা. দীপক কুমার দাস বলেন, দূষিত পানি শোধনে অতিরিক্ত কেমিকেল প্রয়োগের কারণেই এ অবস্থা।
ঢাকা ওয়াসার হিসেবে রাজধানীতে দেড় কোটি মানুষের বাস। এ বিশাল জনসংখ্যার জন্য প্রতিদিন ২২২ কোটি লিটার পানি লাগে।
ঢাকা ওয়াসার উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আতাউর রহমান বলেন, শুষ্ক মৌসুমে ঘাটতি থাকলেও বর্তমান সময়ে চাহিদার চেয়ে সরবরাহ বেশি। সে অনুযায়ী ঢাকায় এখন পানি সংকট নেই। ২০২০ সালের মধ্যে এ সংকট কেটে যাবে।
এদিকে, পানির সমস্যা সমাধানে এরইমধ্যে তিনটি প্রকল্প হাতে নিয়েছে ওয়াসা।