ঊচ্চ আদালতের মর্যাদাকে অক্ষুণ্ণ রাখতে এবং বিচারবিভাগের স্বাধীনতা, স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যেই সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী আনা হয়েছে বলে জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত। মঙ্গলবার জাতীয় সংসদ ভবনে আইন মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।
সুরঞ্জিত বলেন, একটি স্বার্থান্বেষী মহল কোনো কিছু না বুঝে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যেএ বিষয়টি নিয়ে অপপ্রচার চালাচ্ছে।
তিনি আরো বলেন, ‘এদের নিয়োগ দেন রাষ্ট্রপতি এবং অব্যাহতি ও অপসারণ করেন রাষ্ট্রপতি, আমরা না। তাহলে এ অপপ্রচার কেন? পার্লামেন্ট করে ফেলছে সব কিছু! এখানে পার্লামেন্ট কী করবে? তদন্ত করে দেখা হবে এরা দোষী কি-না? এটা করবে আরেক কমিটি। এটাও পার্লামেন্ট করবে না। পার্লামেন্ট হচ্ছে নিমিত্তের ভাগী।’
বাহাত্তরের সংবিধানেও এ ক্ষমতা সংসদের হাতে থাকলেও কোনো বিচারপতিকে অপসারণ বা অব্যাহতি দেয়া হয়নি— উল্লেখ করে সুরঞ্জিত বলেন, এ ব্যবস্থাটি বিচারবিভাগ এবং জনগণের কল্যাণেই করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, ‘সংবিধানিক দায়িত্ব পালন করা এবং সুপ্রিম কোর্টের হাইয়ার জুডিশিয়ারি এর স্বাধীনতা, তার সেপারেশন ও তার মর্যাদাকে অক্ষুণ্ণ রাখাই হচ্ছে বর্তমান সরকারের লক্ষ্য।’
প্রসঙ্গত, সংসদ অধিবেশনে রোববার আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বিচারপতিদের অপসারণের ক্ষমতা সংসদের হাতে ফিরিয়ে দেয়ার বিধান রেখে সংবিধানের ষোড়শ সংশোধন বিল জাতীয় সংসদে উত্থাপন করেন। ওই দিন রাতেই বিলটি যাচাই-বাছাই করে ৭ দিনের মধ্যে রিপোর্ট দেয়ার জন্য আইন সংসদ ও বিচার, মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়।