রাজধানীতে বিমসটেক (বে অব বেঙ্গল ইনিসিয়েটিভ ফর মাল্টি-সেক্টোরাল টেকনিক্যাল অ্যান্ড ইকোনমিক কো-অপারেশন) এর সচিবালয় উদ্বোধন করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, বিমসটেক সচিবালয় হবে বঙ্গোপসাগরের এ অঞ্চলের ৭টি দেশের গর্বিত অংশীদারত্বের এক গর্বিত প্রতিষ্ঠান।
শনিবার রাজধানীর গুলশান-২ বিমসটেক সচিবালয় উদ্বোধন শেষে তিনি এ কথা বলেন।
এ সময় বিমসটেকভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে বাণিজ্য চুক্তি বাস্তবায়নের তাগিদ দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
তিনি বলেন, ‘এখানে (বাংলাদেশ) রয়েছে প্রচুর প্রাকৃতিক সম্পদ। যার সুষ্ঠু ব্যবহারের মাধ্যমে এ অঞ্চলের মানুষের জীবনমানসহ আত্মসামাজিক ব্যবস্থায় ব্যাপক উন্নয়ন করা সম্ভব। এ প্রেক্ষিতে সকল প্রকার কর্যক্রম সফলভাবে সম্পাদনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সরকারের পক্ষ থেকে সম্ভাব্য সকল প্রকার সহযোগিতা প্রদানের আশ্বাস প্রদান করছি।’
দারিদ্র্য বিমোচনকে অগ্রাধিকার দিয়ে মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল গঠনসহ সকল চুক্তি বাস্তবায়নে সদস্য দেশগুলোকে তাগিদও দেন প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, ‘বিমসটেকে মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল বিষয়ক কাঠামো চুক্তিতে প্রায় এক দশক আগে স্বাক্ষরিত হলেও সেটা এখনো তেমন কার্যকারিতা পায়নি। আমি আশা করি, এটা আরো কার্যকরভাবে এর উদ্যোগ নেয়া হবে এবং সফলতা অর্জন সম্ভব হবে। এছাড়া, পণ্য বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত পর্যায় থাকলেও সেবা ক্ষাতে বাণিজ্য বিনিয়োগ সংরক্ষণ সংলঙ্গন চুক্তিগুলো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়ে গেছে। এ চুক্তিগুলো দ্রুত সম্পন্ন করা আর এ অঞ্চলগুলো অর্থনৈতিক সহায়তায় ভূমিকা রাখতে পারে দ্রুত নিতে হবে।’
এছাড়া, সকল সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে এ অঞ্চলের জ্বালানি নিরাপত্তা বৃদ্ধির পাশাপাশি প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলায় এক সঙ্গে কাজ করারও আহ্বান জানান শেখ হাসিনা।
তিনি বলেন, ‘জলবায়ু পরিবর্তনসহ অন্যান্য প্রকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলায় সকলকে এক সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানাই। এ চ্যালেঞ্জ মোকাবেলার সক্ষমকা অর্জনের জন্য আমাদের অংশীদারিত্বমূলক সম্পর্ক গড়ে তুলতে হবে। নিরাপত্তা, পর্যটন ও প্রযুক্তির ক্ষেত্রেও আমাদের সহযোগিতা সম্পর্ক আরো বাড়াতে হবে।’
উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে চার টাকা মূল্যমানের একটি স্মারক ডাকটিকিটসহ একটি খাম ও ডেটা কার্ড অবমুক্ত করেন শেখ হাসিনা।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত, পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম, বিমসটেক সচিবালয়ের প্রথম মহাসচিব সুমিত নাকানদালা প্রমুখ।