বিচারপতিদের অভিশংসনের বিষয়ে আইন করার সময় বিশেষজ্ঞদের মতামত নেয়া হবে বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক।
শনিবার রাজধানীর হোটেল সোনারাগাঁওয়ে ‘আইনগত সহায়তার ক্ষেত্রে সরকারি ও এনজিও উদ্যোগের অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে ন্যায় বিচার লাভ’ বিষয়ক জাতীয় সম্মেলন শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, ‘এ সংবিধানের যে সংশোধন তার ব্যাপারে আর কারো মতামত নেয়ার কোনো প্রয়োজন নেই। কিন্তু যখন এ আইনটা করা হবে, যেটা অপসারণের ব্যাপারে কার্যকর হবে। সেই আইনটা করার সময় সকলের মতামত গ্রহণ করা হবে। সকলের মতামতের প্রক্ষিতে একটি আইন হবে, যেটা সকল পক্ষকে তার আত্মপক্ষ সমর্থনের জন্য সমান সুযোগ দেয়, সেই রকম আইন করা হবে।’
বর্তমান সংবিধান অনুযায়ী, সংবিধানের ১১৮, ১২৯ ও ১৩৯ অনুচ্ছেদে সুপ্রিম কোর্টের বিচারকদের অপসারণের ক্ষেত্রে যেসব কারণ উল্লেখ রয়েছে, সেগুলো ছাড়া সমমর্যাদার সাংবিধানিক পদধারীদের অপসারণ করা যাবে না। অর্থাৎ নির্বাচন কমিশন, সরকারি কর্ম কমিশন এবং মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রকের অপসারণ বিচারপতিদের ন্যায় একই পদ্ধতি ও কারণে হবে।
উল্লেখ্য, ১৯৭২ সালে সংবিধান প্রণয়নের সময় উচ্চ আদালতের বিচারকদের পদের মেয়াদ নির্ধারণ ও তাদের সরানোর ক্ষমতা সংসদের হাতে ছিল। ১৯৭৫ সালে সংবিধানের চতুর্থ সংশোধনীর মাধ্যমে বিচারপতিদের অভিশংসনের ক্ষমতা রাষ্ট্রপতির হাতে ন্যস্ত হয়।
চতুর্থ সংশোধনী বাতিল হলে জিয়াউর রহমানের সামরিক সরকারের আমলে এক সামরিক আদেশে বিচারপতিদের অভিশংসনের জন্য সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল গঠন করা হয়।