সুন্দরবন রক্ষায় অংশ নিয়ে বাঘ ও প্রকৃতিকে বাঁচাতে এগিয়ে আসার জন্য বিশ্ব সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। রোববার পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের আয়োজনে ১৩টি দেশের অংশগ্রহণে তিন দিন ব্যাপী সম্মেলনের উদ্বোধন শেষে তিনি এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, বাঘ সংরক্ষণের লক্ষ্য অর্জনের জন্য বিশ্ব একটি পর্যায়ে পৌঁছেছে। এ পর্যন্ত নেয়া কর্মসূচির মূল্যায়ন ও ঘাটতিগুলো চিহ্নিত করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেয়া হবে।
এ সময় বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধি ও বিজ্ঞানীদের উদ্দেশে দেয়া বক্তব্যে সুন্দরবনসহ বন্যপ্রাণী রক্ষার সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপের কথাও বলেন শেখ হাসিনা।
তিনি বলেন, ‘এ মুহূর্তে আমাদের পরিকল্পনা কর্মসূচি বাস্তায়ন প্রক্রিয়া মূল্যায়ন ও ঘার্তিগুলো চিহ্নিত করে পরবর্তী পদক্ষেপ আমারা গ্রহণ করবো। ২০২২ সালের মধ্যে বাঘের সংখ্যা দ্বিগুণ করার বিষয়ে গৃহিত পদক্ষেপগুলো পর্যালোচনা করে এ সম্মেলনে একটি নতুন কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা প্রয়োজন।’
তিনি আরো বলেন, ‘বাঘ রক্ষায় আমাদের সরকার প্রয়োজনীয় সকল প্রকার সহযোগিতা কর যাবে।’
গত ২ বছরে কোনো বাঘ হত্যা করা হয়নি জানিয়ে বাঘের আবাস স্থল রক্ষায় বিশ্ব সম্প্রদায়কে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান শেখ হাসিনা।
তিনি বলেন, ‘শুধু বাঘ রক্ষায় নয় বরং প্রাণী বৈচিত্র বিপুল আধার হিসেবে সুন্দরবনকে রক্ষা করা একান্তভাবে জরুরি। প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও জীব পরিবেশে এক অনন্য নিদর্শন সুন্দরবন। বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলের সমুদ্র উপকূলবর্তী এলাকাকে বঙ্গপোসাগরে সৃষ্ট সাইক্লোন রক্ষা করে। তাই বিশ্ব সম্প্রদায়কে সুন্দরবনকে রক্ষা করার জন্য আহ্বান জানাচ্ছি।’
বাংলাদেশসহ বাঘ অধ্যুষিত সব দেশে বাঘ সংরক্ষণে সবার আন্তরিক প্রচেষ্টা অব্যহত থাববে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী ।
প্রসঙ্গত, ২০০৪ সালে ভারত ও বাংলাদেশের যৌথ বাঘশুমারী অনুযায়ী এ বাঘের সংখ্যা ছিল ৪৪০। তবে ২০০৬ সালে জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয়ের জরিপে বাঘের সংখ্যা পাওয়া যায় ২০০টি। আর সর্বশেষ ২০১২ সালের সমীক্ষায় দেখা যায় আগের তুলনায় বাঘের সংখ্যা কমেছে প্রায় ৬৯%।