মুক্তিযোদ্ধা সনদ নেয়ার প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় চার সচিব ও একজন যুগ্ম সচিবের সনদ বাতিলের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
রোববার মুক্তিযুদ্ধ ও জনপ্রশাসন বিষয়ক মন্ত্রণালয় জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল (জামুকার) বৈঠকের কথা জানিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী মোজাম্মেল হক।
এছাড়া লালমুক্তি বই ও ভারতের কাছ থেকে পাওয়া প্রশিক্ষণ তালিকার ১ লাখ ৪৪ হাজার ছাড়া বাকিদের সনদ স্থগিত করা হয়েছে— আগামী বছরের ২৬ মার্চের মধ্যে যাচাই-বাছাই করে মুক্তিযোদ্ধাদের চুড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করা হবে বলেও জানান তিনি।
তবে এই পাঁচ জন প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা কিনা, তা নিয়ে এখনো কো তদন্ত হয়নি। মন্ত্রীর বক্তব্য, তারা আবার মুক্তিযোদ্ধা সনদের জন্য আবেদন করলে এ বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।
সনদ বাতিল হওয়া ওই ৫ সচিব হলেন: স্বাস্থ্যসচিব নিয়াজউদ্দিন মিঞা, সদ্য ওএসডি হওয়া মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব কে এইচ মাসুদ সিদ্দিকী, সরকারি কর্মকমিশনের (পিএসসি) সচিব এ কে এম আমির হোসেন, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সাবেক সচিব মোল্লা ওয়াহিদুজ্জামান (বর্তমানে প্রতিমন্ত্রী মর্যাদা বেসরকারীকরণ কমিশনের চেয়ারম্যান) এবং মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব (ওএসডি) আবুল কাসেম তালুকদার।
গত সোমবার তাদের বিরুদ্ধে সনদগ্রহণে অনিয়মের অভিযোগ সম্পর্কিত তদন্তে সত্যতা তথ্য জানিয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পক্ষ থেকে ব্যবস্থা গ্রণের সুপারিশ করে জনপ্রশাসন ও মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো হয়।
গত বুধবার জনপ্রশাসন ও বৃহস্পতিবার মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়ে চিঠি পৌঁছায়।
পরবর্তীতে গত বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক জানান, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
গত ২২ জানুয়ারি দৈনিক প্রথম আলোতে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয় ‘চাকরির শেষ সময়ে মুক্তিযোদ্ধা সনদ নেয়ার হিড়িক’ শিরোনামে সংবাদটি প্রকাশিত হলে ব্যাপক তোলপাড় শুরু হয়। বিষয়টি নিয়ে সমালোচনার মুখে পড়েন প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তারা। শুরু অনুসন্ধানের।
সরকারি নিয়মানুযায়ী চাকরিতে যোগদানের সময়ই নিজেকে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে ঘোষণা দেয়ার কথা থাকলেও এ শীর্ষ কর্মকর্তারা চাকরির শেষ সময়ে নিজেদের মুক্তিযোদ্ধা ঘোষণা করে সনদ নেন।
প্রসঙ্গত: গত পাঁচ বছরে মুক্তিযোদ্ধা সনদ নিয়েছেন সরকারি-বেসরকারি কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন পেশার ১১ হাজার ১৫০ জন। সচিব থেকে শুরু করে চিকিৎসক, শিক্ষক, প্রকৌশলী, ব্যাংকারও রয়েছেন এ তালিকায়।