যাত্রীবাহী লঞ্চের ছাদে অতিরিক্ত যাত্রী নেয়া যাবে না— লঞ্চের ‘লোড লেভেল’ (বিপদ সীমা) ছাড়িয়ে অতিরিক্ত যাত্রী উঠানো এবং অতিরিক্ত যাত্রী বোঝাই করা যাবে না বলে জানিয়েছেন নৌ পরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খান।
আসন্ন পবিত্র ঈদ-উল-আযহা ২০১৪ উপলক্ষে নৌ পথে সুষ্ঠু, সুশৃঙ্খল ও নিরাপদ নৌ চলাচল এবং যাত্রীদের যাতায়াত নির্বিঘ্ন করার লক্ষ্যে রমনা রেস্তোরাঁয় নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয় আয়োজিত এক সভায় তিনি এ কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, লঞ্চে চলাচলকারী যাত্রীদের টিকিট নিয়ে লঞ্চে উঠতে হবে। টিকিট বিক্রির স্থানের অভাবের কারণে সীমিত আকারে টিকিট চালু করা হবে।
মন্ত্রী বলেন, প্রতি বছরের মতো বিজিপি, পুলিশ, আনসার, স্কাউটসহ সর্বস্তরের লোকজন আইন-শৃঙ্খলায় নিয়োজিত থাকবে।
তিনি বলেন, আমরা গত ঈদ থেকে স্পিডবোটে যাত্রীদের লাইফ জ্যাকেট চালু করেছি। এই জ্যাকেট পরিধান করে যাত্রীরা যাতে আরো নির্বিঘ্নে চলাচল করতে পারেন তার ব্যবস্থা নেয়া হবে।
তিনি বলেন, ঈদের তিন দিন আগে ও তিন দিন পর সর্বমোট ৭ দিন পচনশীল দ্রব্য এবং গরু বহনকারী ট্রাক ব্যতিত সব ধরনে ট্রাক চলাচল বন্ধ থাকবে।
বিআইডব্লিউটি এর ১০টি ড্রেজার প্রস্তুত থাকবে। এখন পানি টানার সময় অর্থাৎ ভাটার প্রবণতা থাকবে। কোনো স্থানে ডুবোচর দেখা দিলে তৎক্ষণাৎ সেই ডুবোচর অপসারণ করা হবে বলে জানান মন্ত্রী।
ঈদ এলেই লঞ্চ লঞ্চের ভাড়া বৃদ্ধি করার প্রবণতা দেখা যায়। কোনো ক্রমেই লঞ্চের ভাড়া বৃদ্ধি করা যাবে না—এ কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, নদীর মাঝ পথ থেকে নৌকা দিয়ে যাত্রী উঠানো যাবে না। এ বিষয়ে কোস্ট গার্ড দেখাশুনা করবে।
শাজাহান খান বলেন, লঞ্চে পর্যাপ্ত বয়া থাকতে হবে। আবহাওয়া খারাপ থাকলে লঞ্চ বন্ধ থাকবে। আনফিট লঞ্চ চলাচল করবে না।
সভায় উপস্থিত ছিলেন নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব সৈয়দ মঞ্জুরুল ইসলাম, বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ চলাচল কর্তৃপক্ষের (আইডব্লিউটিএ) চেয়ারম্যান ড. সামুদ্দোহা খন্দকার, অভ্যন্তরীণ নৌ চলাচল কর্পোরেশনের (আইডব্লিউটিসি) চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান, সমুদ্র পরিবহন অধিদপ্তরের ডিজি কমোডর জোবায়ের, ঢাকা, মানিকগঞ্জ ও মুন্সিগঞ্জের জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, বিআইডব্লিউটিএ ও বিআইডব্লিউটিসির উর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের (উত্তর ও দক্ষিণ) কর্মকর্তাবৃন্দ এবং নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাবৃন্দ। সূত্র বাসস।