একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার নিশ্চিত করার আন্দোলনে সরকার নীতিগতভাবে অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বুধবার রাজধানীতে জাতিসংঘে বাংলাদেশের সদস্যপদ লাভের ৪০ বছর পূর্তি উপলক্ষে বিশেষ স্মারক অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
এ সময় গোটা বিশ্বে যুদ্ধ-সংঘাত বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে বিশ্ব নেতৃত্বের প্রতি আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।
জাতিসংঘের সঙ্গে সম্পর্ক আরো গভীর করতে সকল সদস্য রাষ্ট্রের সঙ্গে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘বাংলাদেশে সব সময় যে কোনো ধরনের সংঘাত প্রতিরোধ, যুদ্ধ বন্ধ করে শান্তি প্রতিষ্ঠা ও সন্ত্রাস বিরোধী যে কোনো পদক্ষেপে জাতিসংঘের সঙ্গে থাকবে। শান্তি প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশ অগ্রণী ভূমিকা রাখবে।’
গণহত্যাসহ সকল মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের ক্ষেত্রে নিজের অবস্থানও তুলে ধরেন শেখ হাসিনা।
তিনি বলেন, ‘গণহত্যা প্রতিরোধে সারাবিশ্বে যে প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে আমরা তার সঙ্গে একাত্ত্বতা ঘোষণা করছি। মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার না হওয়ার সংস্কৃতি যাতে বন্ধ হয় এ জন্য অপরাধের বিচার নিশ্চিত করার আন্দোলনে আমরা নীতিগতভাবে অগ্রহগামী।’
সকল যুদ্ধ-সংঘাত বন্ধে বিশ্ব মানবাধিকার সংস্থাগুলোর পাশাপাশি জাতিসংঘকেও এক হয়ে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে শেখ হাসিনা আরো বলেন, ‘এ মহান দিনে বিশ্ব নেতৃত্বের প্রতি আহ্বান জানবো, আসুন যুদ্ধ, সংঘাত বন্ধ করার জন্য সকলে এক হয়ে কার্যকর পদক্ষেপগ্রহণ করি। জাতিসংঘকে আরো কার্যকর ভূমিকা পালনের জন্য সকলে সহযোগিতা করি। আমরা যুদ্ধ, সংঘাত চাই না বরং আমারা শান্তি চাই।
এ সময় ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়তে জাতিসংঘকে পাশে চান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
উল্লেখ্য, ১৯৭১ সালে বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর একটি স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে অন্যান্য দেশের স্বীকৃতি পাওয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার সদস্যপদ লাভ করাটাও জরুরি ছিল। এরই ধারাবাহিকতায় স্বাধীনতা লাভের তিন বছর পর ১৯৭৪ সালের ১৭ই সেপ্টেম্বর জাতিসংঘে সাধারণ পরিষদে প্রথমবারের মতো উত্তোলন করা হয় বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা।
সে বছরের ২৪ সেপ্টম্বর বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বাংলায় বক্তৃতা করেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।