নিউইয়র্কে বৈশ্বিক জলবায়ু সম্মেলনের ভাষণে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় ৭টি সুপারিশ তুলে ধরেন। কার্বন নিঃসরণে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর জন্য সহায়তা বাড়াতে ধনী দেশগুলোর ওপর চাপ বাড়ানোর আহ্বান তিনি।
অনুন্নত দেশ হিসেবেও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় নিজস্ব খাত থেকে তার সরকারের ৩৮ কোটি ৫০ লাখ ডলার বরাদ্দের কথা উল্লেখ করেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী। এছাড়াও জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা করে টেকসই উন্নয়নের জন্য বাংলাদেশের নেয়া বিভিন্ন সুদূরপ্রসারী উদ্যোগ তুলে ধরেন তিনি।
সম্মেলনে শেখ হাসিনা বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় সম্প্রতি সৌর বিদ্যুৎ ও উন্নত চুলা ব্যবহারসহ বেশ কিছু সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ নিয়েছে বাংলাদেশ। এছাড়াও বিরূপ প্রাকৃতিক পরিবেশ-সহিষ্ণু বিভিন্ন জাতের ধান উদ্ভাবনসহ দীর্ঘ মেয়াদী অ্যাকশন প্ল্যান বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বাংলাদেশের গড় প্রবৃদ্ধি ২ থেকে ৩ ভাগ কমে যাওয়ার আশঙ্কার কথাও তুলে ধরেন তিনি।
উপকূলীয় অঞ্চলে সৃষ্ট অকাল বন্যা, জলাবদ্ধতা লবনাক্ততার কথা উল্লেখ করে শেখ হাসিনা আরো বলেন, বাংলাদেশে খাদ্যশষ্য উৎপাদন হুমকির মুখে। বাস্তুচ্যুত হচ্ছে হাজার হাজার মানুষ, চিরায়ত বংশানুক্রমিক পেশাও হারিয়ে ফেলছে উপকূলের বাসিন্দারা।
এদিকে, আগামী ২৭ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
এর আগে সম্মেলনের উদ্বোধনী বক্তব্যে জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি-মুন জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় দৃঢ় অবস্থান ঘোষণার জন্য বিশ্ব নেতাদের প্রতি আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, এমন ঘোষণা আসতে হবে যা গ্রিন হাউস গ্যাস নিঃসরণ কমাবে, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় সক্ষমতা বাড়াবে। একই সঙ্গে ২০১৫ সালের মধ্যে একটি অর্থবহ চুক্তি নিশ্চিত করার পক্ষে রাজনৈতিক সদিচ্ছার প্রকাশ ঘটবে।
এছাড়াও জাতিসংঘের জলবায়ু সম্মেলনে অংশ নিয়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নেতারা, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় নিজ নিজ দেশের নেয়া পদক্ষেপগুলো তুলে ধরছেন এবং ভবিষ্যত করণীয় নিয়ে দিকনির্দেশনা দিচ্ছেন।
সম্মেলনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় একটি চুক্তিতে উপনীত হতে হবে।
সব দেশকে সমান মনোভাব নিয়ে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে তিনি আরো বলেন, কার্বন নিঃসরণ ভয়াবহ হারে বাড়ছে এবং নিজেদেরকেই এই নিঃসরণ কমাতে হবে। যুক্তরাষ্ট্র এরইমধ্যে জ্বালানির অপচয় রক্ষায় ব্যাপক বিনিয়োগ করেছে।
দুই দশকের মধ্যে কার্বন নিঃসরণ সর্বনিম্ন পর্যায়ে নামিয়ে আনা হবে বলেও জানান মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
একটি বৈশ্বিক অঙ্গীকারের ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, বিশ্বের সমস্ত শিশুদের রক্ষা করতে এ উদ্যোগ নিতে হবে।