মিথ্যা তথ্যের ভিত্তিতে ও নিয়মবহির্ভূতভাবে ৫ সচিবকে মুক্তিযোদ্ধা সনদ দেয়ার প্রক্রিয়ায় জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়ার তাগিদ দিয়েছেন সাবেক সচিবরা। আর এর জন্য ৫ সচিবের ভুঁয়া মুক্তিযোদ্ধা সনদ ও গেজেট বাতিল হলেও দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা না নেয়ায় বিস্ময় প্রকাশ করেছেন তারা।
পাঁচ সচিব হলেন: স্বাস্থ্য সচিব নিয়াজ উদ্দিন মিঞা, সদ্য ওএসডি হওয়া মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মাসুদ সিদ্দিকী, সরকারি কর্ম কমিশনের সচিব আমির হোসেন, বেসরকারিকরণ কমিশনের চেয়ারম্যান মোল্লা ওয়াহিদুজ্জামান এবং মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ওএসডি হওয়া যুগ্ম সচিব আবুল কাসেম তালুকদার।
সনদ ও গেজেট বাতিল হওয়ার পরপরই অভিযুক্তদের তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেয়া উচিত ছিল বলে মনে করেন সাবেক সচিবরা।
সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব আকবর আলী খান বলেন, ‘প্রজ্ঞাপন যে মুহূর্তে বাতিল হয়ে গেলো সেই মুহূর্ত থেকে তাদের আর চাকুরি নাই। এ হবে আইনের ব্যাখ্যা। যদি সরকার মনে করেন তাদের ছাড়া বাংলাদেশের প্রশাসন চলবে না তাহলে প্রধানমন্ত্রী তাদেরকে চুক্তি ভিত্তিক পুনঃনিয়োগ করতে পারে।’
ভুঁয়া সনদগ্রহণকারীদের নৈতিকতা নিয়েই প্রশ্ন তুলে সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব আলী ইমাম মজুমদার বলেন, ‘এ ধরনের সনদপত্র নেয়া এটা অত্যন্ত অনৈতিক, অন্যায়, বেআইনি। এটা যারা নিয়েছে এবং যারা দিয়েছে তারা সকলেই সমভাবে দোষী। বিশেষ করে যারা উঁচু অবস্থানে আছেন তাদের কাছে মানুষ নৈতিক দিক দিয়ে ঊচ্চমান আশা করে তারা সে হিসেবে আমাদেরকে হতাশ করেছেন।’
সনদ প্রদান ও গ্রহণ উভয় ক্ষেত্রে জড়িতদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়ার জোর দাবি জানান তারা।
এদিকে, যাচাই-বাছাইয়ের জটিলতার কারণে শুধুমাত্র মোল্লা ওয়াহিদুজ্জামানের সনদ স্থগিত করেছে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়। বাকি ৪ জনের সনদ বাতিল করা হয়েছে। তবে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ৫ সচিবসহ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারিদের বিরুদ্ধে এখনো পর্যন্ত কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।
এরইমধ্যে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৬৯তম সম্মেলনে যোগ দিতে নিউইয়র্ক রয়েছেন স্বাস্থ্যসচিব নিয়াজ উদ্দিন মিঞা।
এছাড়াও মিথ্যা তথ্যের ভিত্তিতে ও নিয়মবহির্ভূতভাবে মুক্তিযোদ্ধা সনদ গ্রহণের ঘটনায় ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (ন্যাপ), কমিউনিস্ট পার্টি, ছাত্র ইউনিয়ন, গেরিলা মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে ২৩৬৭ জনের তালিকা সম্প্রতি বাতিল করেছে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়।
অনুসন্ধানে প্রমাণিত হলে তাদের সনদ ও গেজেট বাতিল করতে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়কে সুপারিশ করে দুদক। একইসঙ্গে বিভাগীয় ব্যবস্থা নিতে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়কেও সুপারিশ করেছে সংস্থাটি।
এর আগে একই কারণে প্রায় ৩০০ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারি, চিকিৎসক, শিক্ষকের সনদ ও গেজেট বাতিল করা হয়। অভিযুক্ত আরো ৩০ হাজার জনের ব্যাপারে তদন্ত করছে সরকার। তবে আলোড়ন তুলেছে ৫ সচিবের বিষয়টি।