নেপালের প্রধানমন্ত্রী সুশীল কৈরালা আসন্ন নভেম্বরে কাঠমান্ডুতে অনুষ্ঠিতব্য সার্ক শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন।
শেখ হাসিনার সঙ্গে বৃহস্পতিবার হোটেল স্যুটে এক বৈঠককালে কৈরালা এ আমন্ত্রণ জানান।
বৈঠক শেষে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র সচিব শহিদুল হক সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর প্রেসসচিব এ কে এম শামীম চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।
তিনি বলেন, বৈঠকে দুই প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে আঞ্চলিক যোগাযোগ বৃদ্ধি ও নেপালের বিদ্যুৎ বাংলাদেশে ব্যবহারসহ দ্বিপক্ষীয় বিষয়ে আলোচনা হয়।
পররাষ্ট্র সচিব বলেন, প্রধানমন্ত্রী কৈরালা ফুলবাড়ি ও বাংলাবান্ধা দিয়ে নেপাল ও বাংলাদেশের মধ্যে সড়ক যোগাযোগ স্থাপনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে আবারো অনুরোধ জানিয়েছেন।
এর জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, এ লক্ষ্যে ভারতের সঙ্গে আলোচনা চলছে এবং তিনি আশাবাদী যে এক্ষেত্রে অগ্রগতি সাধিত হবে।
এ প্রসঙ্গে পররাষ্ট্র সচিব বলেন, এ বিষয়ে নয়াদিল্লিতে বাংলাদেশের ভারত ও নেপালের মধ্যে কারিগরি পর্যায়ে একটি ত্রিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। এতে এ অঞ্চলের দেশগুলোর মধ্যে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি অংশীদারিত্বের বিষয়েও আলোচনা হবে।
বাংলাদেশ কর্তৃক নেপালের বিদ্যুৎ ব্যবহার সম্পর্কে শেখ হাসিনা বলেন, এ অঞ্চলের দেশগুলোর মধ্যে বিদ্যুৎ অংশীদারিত্বের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে।
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী নেপালের বিদ্যুৎ প্রকল্পে বাংলাদেশের বিনিয়োগে যুক্ত হওয়ার আগ্রহের কথা প্রকাশ করেন।
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর এ বক্তব্যের সঙ্গে সুশীল কৈরালাও একমত যে এ প্রকল্পের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে এবং এটা বাস্তবায়ন করা প্রয়োজন।
পররাষ্ট্র সচিব বলেন, নেপালও এই অঞ্চলের দেশগুলোর মধ্যে বিদ্যুৎ অংশীদারিত্বে আগ্রহ দেখিয়েছে এবং এ ব্যাপারে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেপাল সফরকালে একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী এএইচ মাহমুদ আলী,প্রধানমন্ত্রীর সচিব মো. আবুল কালাম আজাদ ও পররাষ্ট্র সচিব শহিদুল হক অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে, কাঠমান্ডুতে আগামী নভেম্বর মাসে অনুষ্ঠেয় পরবর্তী সার্ক শীর্ষ সম্মেলনের প্রস্তুতির ওপর বৃহস্পতিবার সার্ক সদস্য রাষ্ট্রসমূহের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের এক বৈঠক নিউইয়র্কের হোটেল ওয়েস্টিনে অনুষ্ঠিত হয়েছে।
পররাষ্ট্র সচিব শহীদুল হক জানান, বৈঠকে সার্কভুক্ত আটটি দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা তাদের দেশের অগ্রাধিকারমূলক বিষয়াদি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন।
তিনি বলেন, ‘পররাষ্ট্রমন্ত্রী এএইচ মাহমুদ আলি বৈঠকে বাংলাদেশের অগ্রাধিকারমূলক বিষয় উপস্থাপন করেন।’
এই আলোচনায় আঞ্চলিক যোগাযোগ এবং বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণের বিষয়ও স্থান পায়।