টেকসই উন্নয়নে আধুনিক বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে নগরায়নে নকশা ও পরিকল্পনা গ্রহণের জন্য দেশের স্থপতিদের প্রতি আহবান জানিয়েছেন তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু।
শনিবার কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটে বাংলাদেশ স্থপতি ইনস্টিটিউটের ৬ষ্ঠ আন্তর্জাতিক ‘আর্ক এশিয়া রাউন্ডটেবিল অন সাসটেনেবলেটি ইন আর্কিটেকচার অ্যান্ড কনস্ট্রাকশন বিষয়ে এক সেমিনারে’ তিনি এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, নগরায়নে বস্তিবাসীর আবাসন ও পুনর্বাসন, প্রাকৃতিক দুর্যোগ এবং জলবায়ুর পরিবর্তন ও জনসংখ্যার বিষয়টি গোচরে নিয়ে স্থপতিদের নকশা ও পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে।
হাসানুল হক ইনু বলেন, ‘শুধু প্রবৃদ্ধির কথা চিন্তা করলে হবে না, পাশাপাশি দারিদ্র বিমোচনের কথাও সবাইকে ভাবতে হবে। তা না হলে দেশের প্রকৃত উন্নয়ন হবে না।’
তিনি বলেন, ‘এশিয়ান দেশগুলোকে প্রথমে আবহাওয়া ও জলবায়ুর পরিবর্তন রোধে ভূমিকা নিতে হবে। তারপর অর্থনৈতিক উন্নয়নের পথে এগিয়ে যেতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘নগরায়নের অন্যতম প্রধান সমস্যা হলো বস্তি ব্যবস্থাপনা তাই নগরায়নের জন্য তৃণমূল থেকে শুরু করে স্থানীয়, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। বস্তিবাসীর আবাসনের ছোট ছোট স্বাস্থ্যসম্মত বাড়ি তৈরি করে এই সমস্যার অবসান ঘটাতে হবে।
বাংলাদেশ স্থপতি ইনস্টিটিউটের ৬ষ্ঠ আন্তর্জাতিক এই সম্মেলনে এশিয়ার ১০টি দেশ বিশেষ করে সিঙ্গাপুর,মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড, নেপাল, ভারত. শ্রীলংকা, পাকিস্তান,ভুটানসহ বিভিন্ন দেশের প্রায় ৩০ জন স্থপতি ও প্রকৌশলীসহ প্রায় এক হাজার স্থপতি অংশগ্রহণ করেন।
এশিয়ার বিভিন্ন দেশের স্থপতি সংগঠনের পক্ষ থেকে টেকসই নকশা ও পরিকল্পনা বিষয়ে ১২টি পেপার উপস্থাপন করা হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের আর্কিটেকচার ফর হিউমানিটি প্রতিষ্টানের নির্বাহী পরিচালক স্থপতি এরিক জে কেসল সেমিনারে ‘আর্কিটেকস অ্যান্ড গ্লোবাল রেসপনসিবিলিটি’ বিষয়ে মূল নিবন্ধ উপস্থাপন করেন।
বাংলাদেশ স্থপতি ইনস্টিটিউটের উদ্যোগে ঢাকার খামারবাড়ির কৃষিবিদ ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে দিনব্যাপী এই সেমিনারে উদ্বোধনী অনুষ্টানে সভাপতিত্ব করেন সেমিনার অর্গানাইজিং কমিটির আহবায়ক স্থপতি কাজী মোহাম্মদ আরিফ। বক্তব্য রাখেন, প্রতিষ্টানের সভাপতি আবু সাইদ এম আহাম্মেদ, সাধারণ সম্পাদক জালাল আহাম্মেদ, এআরসিএএসআইএ’র প্রেসিডেন্ট সাথিরুট নুই টানাডানান্ড প্রমুখ।