অত্যন্ত স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষভাবে গঠিত স্বাধীন আন্তজার্তিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধীদের বিচার হচ্ছে— এ চলমান বিচারে বিশ্ব সম্প্রদায়ের সমর্থন চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। শনিবার রাতে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৬৯তম অধিবেশনে বাংলায় ভাষায় দেয়া ভাষণে তিনি এসব কথা বলেন।
শেখ হাসিনা বলেন, ‘স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় যারা মানবতাবিরোধী অপরাধ করেছিল, ধর্ষণ ও গণহত্যার সঙ্গে জড়িত ছিল তাদেরকে বিচারের আওতায় আনা হয়েছে।'
তিনি বলেন, 'অত্যান্ত স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষভাবে গঠিত স্বাধীন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল বেশ কয়েক জন যুদ্ধাপরাধীর বিচার কাজ সম্পন্ন করেছে। আমরা জনগণের দীর্ঘ দিনের ন্যায় বিচার প্রাপ্তির আকাঙ্খার প্রতি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের পূর্ণ সমর্থন প্রত্যাশা করছি।’
বাংলাদেশের স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি এখনো রাষ্ট্রের প্রগতিশীল এবং উদার চরিত্রকে নস্যাৎ করতে সব সময় তৎপর বলে বিশ্ব সম্প্রদায়কে অবহিত করেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী।
বৈশ্বিক উন্নয়নের জন্য শান্তি বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করে শেখ হাসিনা বলেন, স্থায়ী শান্তি ও নিরাপত্তা ছাড়া টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়।
তিনি আরো বলেন, ‘নতুন উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রায় আমাদের প্রত্যাশা অনুযায়ী একটি সমতা ভিত্তিক, সমৃদ্ধশালী এবং টেকসই বিশ্ব গড়ার প্রত্যাশা পূরনের উপায় থাকতে হবে। যেখানে কোনো ব্যক্তি বা দেশ বাদ যাবে না। এ উন্নয়ন এজেন্ডাকে জাতীয় নীতির ঊর্ধ্বে উঠে এবং আন্তর্জাতিক সহায়তা নিশ্চিত কারার মাধ্যমে একটি শক্তিশালী ও বহুপাক্ষিক প্লাটফর্ম সৃষ্টিতে অবশ্যই অবদান রাখতে হবে।’
স্বল্পন্নোত দেশগুলোতে উন্নত দেশের কোটামুক্ত পণ্য প্রবেশিধাকারে বিশেষ নজর দেয়ারও আহ্বান জানান শেখ হাসিনা।
তিনি বলেন, ‘বিদ্যমান বৈশ্বিক অর্থনীতি এবং জ্ঞানভিত্তিক সমাজ ব্যবস্থায় বাংলাদেশের মতো স্বল্প উন্নত এবং জলবায়ু সংবেদনশীল দেশগুলোর জন্য ওডিএ, বিজ্ঞান প্রযুক্তি উদ্ভাবন এবং সক্ষমতা তৈরির ক্ষেত্রে আরো বেশি সমর্থন প্রয়োজন। উন্নত দেশেগুলোর তুলনায় স্বল্প উন্নত দেশগুলোর বাজারগুলোতে সব ধরনের পণ্যের শুল্কমুক্ত ও কোটামুক্ত প্রবেশাধীকার নিশ্চিত করতে হবে।’
এ সময় বাংলা ভাষাকে জাতিসংঘের দাপ্তরিক ভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দেয়া আহ্বান জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘বিশ্বের প্রায় ৩০ কোটি মানুষের মুখের ভাষা বাংলাকে জাতিসংঘের দাপ্তরিক ভাষা হিসেবে স্বকৃতি প্রদানের জন্য মহান অধিবেশনের প্রতি আবারো আহ্বান জানাচ্ছি।’