নারায়ণগঞ্জে সাত খুনের ঘটনা তদন্তে হাইকোর্টের নির্দেশে গঠিত জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের কমিটির ডাকে মুখোমুখি হন র্যা পিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র্যা ব) মহাপরিচালক (ডিজি) মোখলেছুর রহমান।
সোমবার বেলা আড়াইটা দিকে সচিবালয়ে তদন্ত কমিটির প্রধান শাহজাহান আলী মোল্লার কক্ষে এ জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করা হয় তাকে।
জিজ্ঞাসাবাদ শেষে এ সম্পর্কে সাংবাদিকদের প্রশ্নের সংক্ষিপ্ত জবাব দেন র্যা ব মহাপরিচালক।
পরে সাত খুনের ঘটনায় র্যা ব মহাপরিচালকের কাছে থাকা তথ্য, বিভিন্ন পরামর্শ জানতে চাওয়া হয়েছে বলে তদন্ত কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
ঘটনার সঙ্গে র্যা বের সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি প্রতিবেদনেই স্পষ্ট হবে বলে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন কমিটির সদস্যরা। আর প্রধান আসামি নূর হোসেন দেশে ফিরলেই তাকে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে বলেও জানান তারা
এর আগে রোববার বিকেলে নারায়ণগঞ্জে ৭ খুনের ঘটনায় সাক্ষ্য দিতে র্যা বের মহাপরিচালক মোখলেসুর রহমানকে সচিবালয়ে তলব করেছে প্রশাসনিক তদন্ত কমিটি বলে জানান মন্ত্রণালয়ের উপসচিব আবুল কাশেম।
সোমবার দুপুর আড়াইটার দিকে সচিবালয়ে কমিটির চেয়ারম্যান জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. শাহজাহান আলী মোল্লার কক্ষে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে বলেও জানান উপসচিব।
এর আগে নারায়ণগঞ্জে চাঞ্চল্যকর সাত খুনের ঘটনায় এর আগে র্যা বের অতিরিক্ত মহাপরিচালক কর্নেল জিয়াউল আহসানকেও ডেকেছিল হাইকোর্টের নির্দেশে গঠিত এ তদন্ত কমিটি।
চাঞ্চল্যকর ৭ খুনের ঘটনায় এ পর্যন্ত প্রায় ৪০০ জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে কমিটি। চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেয়ার আগে আরো তিন-চার জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হতে পারে।
গত ২৭ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জের সিটি করপোরেশনের ২ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর নজরুলসহ ৭ জনকে অপহরণ করা হয়। এর তিনদিন পর শীতলক্ষ্যা নদীতে তাদের মৃতদেহ পাওয়া যায়।
এ ঘটনায় জড়িত অভিযোগে র্যা ব ১১-এর ৩ কর্মকর্তাকে র্যা ব থেকে সরিয়ে নিজ বাহিনী থেকে চাকরিচত্যুত করা হয়। পরে আদালতে নির্দেশে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
উল্লেখ, গত ২৭ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ২ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর নজরুল, আইনজীবী চন্দন কুমার সরকারসহ সাত জনকে অপহরণ করা হয়। তিন দিন পর শীতলক্ষ্যা নদীতে ছয়জন এবং পরদিন আরও একজনের লাশ পাওয়া যায়।
এরপর আদালতের নির্দেশে গত ৭ মে অভিযোগ তদন্তে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব শাহজাহান আলী মোল্লাকে প্রধান করে সাত সদস্যের কমিটি গঠন করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।
এ অপহরণ ও হত্যার জন্য র্যা বকে দায়ী করে নজরুলের শ্বশুর শহীদুল অভিযোগ তোলেন, কাউন্সিলর নূর হোসেন অর্থ দিয়ে র্যা বের মাধ্যমে তার জামাতাকে হত্যা করিয়েছে।
এরপর র্যা ব-১১-এর কমান্ডিং অফিসার (সিও) লেফটেন্যান্ট কর্নেল সাঈদ তারেক, মেজর আরিফ হোসেন এবং লেফটেন্যান্ট কমান্ডার এম এম রানাকে র্যা ব থেকে সরিয়ে নিজ বাহিনী থেকে চাকরিচ্যুত করা হয়।
আদালতের নির্দেশে চাকরিচ্যুত তিন র্যা ব কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদে তিন জনই সাত খুনের সঙ্গে জড়িত থাকার বিষয়ে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। অপরদিকে নূর হোসেনকে গত ১৪ জুন কলকাতা বিমানবন্দর সংলগ্ন কৈখালী এলাকার একটি ফ্ল্যাট থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের তদন্ত কমিটি ইতোমধ্যে আদালতের কাছে দুই দফা অগ্রগতি প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। এ বিষয়ে কমিটির আহ্বায়ক শাহজাহান মোল্লা বলেন, 'সুষ্ঠু তদন্তের ধারাবাহিকতায় যাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন মনে হচ্ছে, তাদেরই ডাকা হচ্ছে।'
অক্টোবরের মধ্যে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেয়ার জন্য কমিটি কাজ করছে বলেও জানান কমিটির আহ্বায়ক।