মুক্তিযোদ্ধা গণকর্মচারীদের চাকরির মেয়াদ বাড়ানোর নামে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের সুবিধাবঞ্চিত ও সম্মানহানির পাঁয়তারা চলছে বলে অভিযোগ তুলেছেন তারা। সম্প্রতি মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের জারি করা এ সংক্রান্ত পরিপত্র, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে জারি করা অনুশাসনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক উল্লেখ করে পরিপত্র বাতিলের দাবি জানিয়েছেন। বিষয়টি স্বীকার করে শিগগিরই সঠিক ব্যাখ্যা দেয়া হবে বলে জানিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক।
এ প্রসঙ্গে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী বলছেন, বিষয়টি নিয়ে ভুল বোঝাবুঝি হচ্ছে। শিগগিরই সঠিক ব্যাখ্যা তুলে ধরা হবে। দেশ টিভিকে এ কথা বলেন তিনি।
সরকারি চাকরি থেকে মুক্তিযোদ্ধা গণকর্মচারীদের অবসর গ্রহণের মেয়াদ আরও দুই বছর বাড়াতে ২০১০ সালে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। ওই প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, যেসব সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগের সময় নিজেকে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে ঘোষণা দিয়েছেন অথবা যাদের নাম মুক্তিবার্তায় প্রকাশ হয়েছে বা গেজেটে রয়েছে অথবা প্রধানমন্ত্রীর স্বাক্ষর রয়েছে এমন সনদপ্রাপ্তরা- আরো দুই বছর কাজ করতে পারবেন।
গত ৪ আগস্ট ওই চার শর্তের মধ্যে একটি শর্তকে অত্যাবশক করে মুক্তিযোদ্ধা গণকর্মচারীদের চাকরির মেয়াদ বৃদ্ধি সংক্রান্ত একটি পরিপত্র জারি করে।
গত ১৫ সেপ্টেম্বর ‘প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের সব ধরনের সুবিধা দিতে’ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় আরেকটি অনুশাসন জারি করে। এ দুটি সিদ্ধান্তকে সাংঘর্ষিক বলে মনে করছেন বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সভাপতি মো. হেদায়েতুল বারী ও ৩নং সেক্টরে যুদ্ধ করেছেন মুক্তিযোদ্ধা ডা. পঞ্চানন্দ দাস।
গত পাঁচ বছরে সরকারি-বেসরকারি কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন পেশার মোট ১১ হাজার ১৫০ জন মুক্তিযোদ্ধা সনদ নিয়েছেন। এদের মধ্যে ভুয়া প্রমাণিত হওয়ায় ২১০ জনের সনদ বাতিল করা হয়েছে।