ত্যাগের মনোভাব আর আনন্দ-উৎসবের মধ্য দিয়ে সোমবার সারাদেশে পবিত্র ঈদ-উল-আজহা পালিত হচ্ছে। মুসলমানদের অন্যতম প্রধান এ ধর্মীয় উৎসব কোরবানীর ঈদ নামেও পরিচিত।
আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের জন্য হযরত ইব্রাহিম (আ.)-এর প্রিয়তম সন্তানকে কোরবানি দেয়ার উদ্যোগের সেই মহিমান্বিত ঘটনার স্মরণে জিলহজ মাসের ১০ তারিখে ঈদুল আজহা উদযাপন করা হলেও পরের দুইদিন- অর্থাৎ ১১ ও ১২ জিলহজেও কোরবানি দেওয়ার বিধান রয়েছে।
পশু কোরবানি দেয়া প্রতীকী বিষয়। মূলত মানুষের মোহ, লোভ ও ক্রোধসহ কুপ্রবৃত্তি বিসর্জন দেয়াই এর উদ্দেশ্য। মুল উদ্দেশ্যের ব্যত্যয় ঘটিয়ে উৎসর্গের মানসিকতার বাইরে যেন ভোজনের উৎসব না হয় এ কোরবানি—এমন নির্দেশও রয়েছে হাদিসে।
আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের জন্য মুসলমানরা কোরবানির পশুর মাংস গরিব-দুঃস্থদের মাঝে বিলিয়ে দেয়। এর মধ্য দিয়ে পরস্পরকে ঈদের আনন্দ ভাগ করে নেয় সবাই।
পশু কোরবানির তাৎপর্য ও ফজিলত সম্পর্কে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মুফতি বলেন, সামর্থ্যবান মুসলমানদের জন্য কোরবানি ওয়াজিব করা হয়েছে এবং কোরবানি দেয়া পশুর রক্ত মাটিতে পড়ার আগেই তা কবুল হয় আল্লাহ’র দরবারে।
কোরবানির মাংস যথাযথভাবে বিতরণের বিষয়ে আন্তরিক হওয়ার পরামর্শ দেন ইসলামিক ফাউন্ডেশনের হাফেজ মাওলানা মো. আব্দুল্লাহ্।
তিনি বলেন, ‘কোরবানি কিন্তু ফরজ নয়, কোরবানি হচ্ছে ওয়াজিব। মহানবী (স.) বলেন, সব আনন্দের চেয়ে কোরবানি উত্তম ও বেশি মর্যাদাপূর্ণ। সন্তুষ্ট চিত্তে আল্লাহকে পাওয়ার জন্য সঠিকভাবে জেনে, শুনে কোরবানি করো।’
পশু কোরবানির পর করণীয় সম্পর্কে মো. আব্দুল্লাহ্ বলেন, ‘কোরবানির গোসতের ক্ষেত্রে বলা হয়েছে যে, কোরবানির গোসত তিন ভাগ করে— এক ভাগ গরীবদের, এক ভাগ আত্মিয়-স্বজনদের এবং এক ভাগ নিজেরা খাবর জন্য রাখ। আর চামরার বিক্রয় করলে গরিবদের মধ্যে দিয়ে দিতে হবে।’
ঈদ উপলক্ষে নগরী বর্ণিল সাজে সজ্জিত করা হয়েছে। আর শহরজুড়ে নেয়া হয়েছে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা।
এদিকে, রাজধানীতে ঈদের প্রধান জামাত সকাল সাড়ে ৮টায় জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে অনুষ্ঠিত হয়েছে। আর প্রতিবারের মতো এবারো দেশের বৃহত্তম ঈদ জামাত কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দানে হচ্ছে।