কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে বৃহস্পতিবার ভাষাসৈনিক আবদুল মতিনের মরদেহ ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
দুপুরে ১২টায় তার মরদেহ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে রাখা হলে সেখানে তার কফিনে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন রাজনৈতিক ও বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধিসহ সর্বস্তরের মানুষ।
ভাষা আন্দোলনের অন্যতম সংগঠক আবদুল মতিনকে রাষ্ট্রীয় সম্মান না জানানোয় ক্ষোভ প্রকাশ করে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ভাষা মতিন জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান। জাতি আশা করেছিল, রাষ্ট্র তার প্রতি যথাযথ সম্মান জানাবে। তবে কেন জানায়নি তা রাষ্ট্র বলতে পারবে।
এ সময় শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেন, কেন রাষ্ট্র তাকে সম্মাননা জানায়নি তা এ মুহূর্তে বলতে পারব না। তবে আবদুল মতিন ভাষা আন্দোলনের প্রতীক হয়ে আছেন। রাষ্ট্রীয় সম্মাননা বা স্বীকৃতি আনুষ্ঠানিকতা মাত্র।
এর আগে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালের হিমঘর থেকে বেলা ১২টার দিকে আবদুল মতিনের মরদেহ ভাষা আন্দোলনের স্মৃতিবিজড়িত ঢাকা মেডিকেল কলেজ সংলগ্ন আমতলায় নেয়া হয়। সেখান থেকে মরদেহ নেয়া হয় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে।
মৃত্যুর আগেই আবদুল মতিন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালকে মরণোত্তর দেহ ও সন্ধানীকে চক্ষু দান করে গেছেন। বুধবারই মৃত্যুর কয়েক ঘণ্টার মধ্যে তার কর্নিয়া সংগ্রহ করা হয়।
১৯৫২ সালের সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম কমিটির আহ্বায়ক ভাষাসংগ্রামী আবদুল মতিন বুধবার সকালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।