বিরুপ মন্তব্যের জন্য লতিফ সিদ্দিকীকে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। তিনি পদত্যাগ না করায় সংবিধান অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শে রাষ্ট্রপতি তাকে মন্ত্রিসভা থেকে অব্যাহতি দিয়েছেন।
রোববার এক সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোশাররাফ হোসাইন ভূইঞা এ তথ্য জানান।
এদিকে, দল থেকেও তাকে বাদ দেয়া হচ্ছে। সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করতে এখন চলছে দলের কেন্দ্রীয় কমিটির বৈঠক।
তিনি বলেন, অর্থাৎ সংবিধানের ৫৮ অনুচ্ছেদের দফা অনুযায়ী লতিফ সিদ্দিকীর মন্ত্রী পদে নিয়োগের অবসান ঘটানোর জন্য রাষ্ট্রপতিকে পরামর্শ দেন প্রধানমন্ত্রী। এর পরিপ্রেক্ষিতে ওই অনুচ্ছেদের -১ এর 'গ' উপদফা অনুসারে লতিফ সিদ্দিকীর মন্ত্রী পদে নিয়োগের অবসান ঘটানোর নির্দেশ দেন রাষ্ট্রপতি। এরই ভিত্তিতে প্রজ্ঞাপন জারি করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।
তবে লতিফ সিদ্দিকীকে অপসারণের কারণ সম্পর্কে কিছু জানাননি তিনি।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, লতিফ সিদ্দিকীর নিয়োগের অবসান হওয়ায় ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর অধীনে চলে যাবে। এ বিষয়ে নতুন করে আর প্রজ্ঞাপন জারির প্রয়োজন হবে না।
রাষ্ট্রপতির স্বাক্ষরের পর এ প্রজ্ঞাপণ জারি করা হয়। এর আগে শনিবার মন্ত্রিসভা থেকে আবদুল লতিফ সিদ্দিকীর অপসারণের প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে বলে জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোশাররাফ হোসাইন ভূঁইঞা।
ওইদিন মন্ত্রিসভা থেকে আবদুল লতিফ সিদ্দিকীর অপসারণের সব প্রস্তুতির শেষের কথা জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব।
গত ২৯ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে স্থানীয় টাঙ্গাইল সমিতি আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্য প্রযুক্তিমন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকী বলেন, ‘আমি কিন্তু হজ আর তাবলিগ জামাতের ঘোরতর বিরোধী। আমি জামায়াতে ইসলামীরও বিরোধী।’ তার মতে, এতে শ্রমশক্তির অপচয় হয়, উৎপাদনে প্রভাব পড়ে।
এ সময় তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পুত্র সজিব ওয়াজেদ জয় ও টক শোর আলোচকদের নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করেন।
এ নিয়ে দেশে-বিদেশে সমালোচনার ঝড় ওঠে। দেশের বিভিন্ন জায়গায় বিক্ষোভ, গণমিছিল ও মানববন্ধন করে ২০ দলীয় জোটের নেতাকর্মীরা। মামলা হয় দেশের বিভিন্ন জেলায়। আদালত সমনও জারি করে। ফলে মন্ত্রিসভা ও দল থেকে লতিফ সিদ্দিকীকে সরিয়ে দেয়ার সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয় সরকার।