মেয়েদের বিয়ের বয়স না কমাতে বাংলাদেশ সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে নিউ ইয়র্কভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ)। একইসঙ্গে বাংলাদেশে ছেলে-মেয়ে উভয়ের বিয়ের ন্যূনতম বয়স ১৮ নির্ধারণের জন্য সরকারের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছে সংস্থাটি।
সোমবার সংস্থাটির ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে এ আহ্বান জানানো হয়।
সম্প্রতি মেয়েদের বিয়ের বয়স কমাতে মন্ত্রপরিষদের চিন্তাভাবনা বিষয়ে বিবৃতিতে বলা হয়, মেয়েদের বিয়ের বয়স কমানোর প্রস্তাবটি বাংলাদেশ সরকারের বাল্যবিয়ে কমানোর প্রতিশ্রুতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
‘বাংলাদেশ: বিয়ের বয়স কমাবেন না’ শীর্ষক ওই বিবৃতিতে হিউম্যান রাইটস ওয়াচের নারী অধিকারবিষয়ক পরিচালক লাইজেল গার্নথোলজ বলেন, ‘বাংলাদেশে মেয়েদের বিয়ের বয়স ১৬ নির্ধারণ করা হলে তা হবে একটি ভয়ঙ্কর পদক্ষেপ।’
বাংলাদেশে বাল্যবিয়ের উচ্চহারের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, নতুন আইনে ছেলে-মেয়ে উভয়ের বিয়ের ন্যূনতম বয়স ১৮ নির্ধারণ করা উচিত।
বিবৃতিতে আরো বলা হয়েছে, পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে ছেলে-মেয়ে উভয়ের বিয়ের বয়সে কোন পার্থক্য নেই। সবদেশেই বিয়ের ন্যূনতম বয়স ১৮ বছর নির্ধারিত। বাল্যবিয়ের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা মানতে বাংলাদেশ বাধ্য বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।
এতে আরো বলা হয়েছে, এ পর্যন্ত বাল্যবিয়ে বন্ধে বাংলাদেশ সরকারের নেয়া পদক্ষেপ উৎসাহজনক। তবে বাল্যবিয়ে কমিয়ে আনার ক্ষেত্রে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ কিভাবে সফলতা লাভ করেছে তা থেকে বাংলাদেশ ধারনা নিতে পারে।
ইউনিসেফের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বে বাল্যবিয়ের হারের দিক দিয়ে বাংলাদেশের অবস্থান দ্বিতীয়। বর্তমানে বাংলাদেশে ২০ থেকে ৪৯ বছর বয়সি বিবাহিত নারীদের ৭৪% বিয়ে হয়েছে ১৮ বছরের আগে।