দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় যে অরাজকতা চলছে তা দেশের সামগ্রিক নৈরাজ্যেরই বহিঃপ্রকাশ—হাজার হাজার জিপিএ-৫ দিয়ে হাজার হাজার ‘মাকাল ফল’ তৈরি করা হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন বিশিষ্টজনেরা। মঙ্গলবার জাতীয় প্রেসক্লাবে ‘দেশের শিক্ষার বর্তমান হালচাল’ শীর্ষক আলোচনায় সভায় তারা এ কথা বলেন।
শুধু তাই নয়, শিক্ষার মানোন্নয়নে ছাত্র সমাজের যে আন্দোলন করার কথা, তাতে ব্যর্থ হয়েছে ছাত্র রাজনীতি বলে মন্তব্য করেছেন তারা।
আলোচনায় বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) সাবেক উপাচার্য আবদুল মতিন পাটওয়ারী বলেন, গত কয়েক বছরে জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বাড়লেও, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় অকৃতকার্যের হারও বেড়েছে পাল্লা দিয়ে।
যুক্তরাষ্ট্রের গ্রেডিং পদ্ধতি এদেশে অনুসরণ করা হলেও, নম্বর বিভাজনের ক্ষেত্রে তা মানা হয়নি— উল্লেখ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের শিক্ষক আসিফ নজরুল বলেন, হাজার হাজার জিপিএ-৫ দিয়ে ‘মাকাল ফল’ তৈরি করা হচ্ছে। মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিকের ফলাফল বাস্তবসম্মত কি-না? তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। শিক্ষার মানোন্নয়ন নিয়ে আলোচনা-বিতর্ক গোলটেবিলে সীমাবদ্ধ না রেখে রাজপথে নিয়ে আসা প্রয়োজন।
এ সময় নিজেদের সীমাবদ্ধতার কথা স্বীকার করে বোর্ড ভিত্তিক পরীক্ষার পরিবর্তে বিদ্যালয় ভিত্তিক পরীক্ষা অনুষ্ঠানের পক্ষে মত দেন শিক্ষাসচিব নজরুল ইসলাম খান।
তিনি বলেন, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার ফলাফল আর পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষার ফলাফল দুটো ভিন্ন বিষয়।
প্রসঙ্গত, দেশে শিক্ষার মান নিয়ে বিভিন্ন সময় প্রশ্ন উঠলেও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘খ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশের পর থেকেই আলোচনার কেন্দ্রে আসে এ বিষয়টি। শুধু শিক্ষা পদ্ধতিই নয়, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা, কোচিং বাণিজ্য, লেজুরবৃত্তির ছাত্র রাজনীতি- এমন কি খোদ শিক্ষানীতি নিয়েও বিভিন্ন মহলে আলোচনা-সমালোচনার ঝড় উঠে।