থাইল্যান্ডে দাস হিসেব আটক বাংলাদেশিদের খুব শিগগিরই দেশে ফিরিয়ে আনা হবে— জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ এইচ মাহমুদ আলী।
রোববার বিকেলে রাজধানীতে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন তিনি।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এ ব্যাপারে থাইল্যান্ড সরকারের সঙ্গে আলোচনার পর তাদের ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
থাইল্যান্ডের একটি জঙ্গল থেকে গত সোমবার প্রায় ৮৯ জন বাংলাদেশিকে উদ্ধার করে দেশটির সরকার। ক্রীতদাস হিসেবে বিক্রির জন্য তাদের সেখানে নেয়া হয়েছিল।
এর আগে থাইল্যান্ডে ক্রীতদাসের মতো কাজ করছে প্রায় ১৩০ বাংলাদেশিকে উদ্ধার করে কর্তৃপক্ষ।
দক্ষিণ থাইল্যান্ডে একটি চক্র রয়েছে-যারা দীর্ঘদিন ধরেই বাংলাদেশিদের বিভিন্ন খামারে বা মাছধরার ব্যবসায় ক্রীতদাসের মতো কাজ করায় বলে জানা গেছে। গত এক সপ্তাহে এমন ১৩০ জন বাংলাদেশিকে উদ্ধার করেছে সেখানকরা কর্তৃপক্ষ। সূত্র বিবিসি।
বিবিসির দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক সংবাদদাতা জোনাথন হেড বলেন, ১৩০ জন বাংলাদেশি পুরুষকে উন্নত চাকরির লোভ দেখিয়ে নিয়ে আসা হয়েছে। তারা সবাই মানব পাচারের শিকার।
ভিডিওটিতে দেখা যায়, একটি জঙ্গলের মধ্যে অর্ধশতাধিক ব্যক্তি বসে আছেন। তাঁদের পরনে লুঙ্গি, গেঞ্জি, প্যান্ট বা শার্ট। কেউ কেউ খালি গায়েও আছেন। তাঁদের অঙ্গভঙ্গি অসহায়ের মতো। চেহারা বিধ্বস্ত। চোখে-মুখে ক্ষুধার তাড়না।
উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের পরে একটি কেন্দ্রে দেখা যায়। সেখানে বসে আল্লাহর কাছে হাত তুলে তাঁদের কান্নায় ভেঙে পড়তে দেখা যায়।
বাংলাদেশ ছাড়ার পর তাদেরকে ওষুধ খাইয়ে, হাত-পা বেঁধে নৌকায় করে থাইল্যোন্ড নিয়ে যাওয়া হয়। ওই নৌকায় প্রায় ৩০০ বন্দী ছিল।
এরপর তাদেরকে থাইল্যান্ডের উপকুলে জঙ্গলের মধ্যে লুকানো কিছু ক্যাম্পে নিয়ে যাওয়া হয়, এবং দাস-শ্রমিক হিসেবে বিক্রি করে দেয়া হয়।
উদ্ধারের পর আবদুর রহিম নামের একজন বাংলাদেশি বলেন, তাদের জঙ্গলে নিয়ে রাখা হয়েছিল, কোনো খাবার দেয়া হয়নি। ১০ দিন তারা শুধু পাতা খেয়ে বেঁচে ছিলেন। তিনি বলেন, থাই দালালরা তাকে এমন মারধর করেছে যে এখনো তিনি খুঁড়িয়ে হাঁটেন।
বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সম্ভবত এদের ক্ষেত-খামারে বা মাছধরার নৌকায় কাজ দাসশ্রমিক হিসেবে করানো হয়।
তিন সপ্তাহ বন্দী থাকার পর একজন স্থানীয় জেলা প্রশাসন কর্মকর্তা - যিনি মানবপাচার রোধের জন্য কাজ করছেন - তাদের উদ্ধার করেন।
তবে অন্য আরো ৬০ জন এখন নিখোঁজ রয়েছেন এবং তাদের বিক্রি করে দেয়া হয়েছে বলে ধারনা করা হচ্ছে। থাইল্যান্ডে দীর্ঘদিন ধরেই মানবপাচার একটি বড় সমস্যা।
মাছ ধরার নৌকাগুলোতে দাস শ্রমিক দিয়ে কাজ করানোর অভিযোগ ওঠায় ইউরোপে সি-ফুড জাতীয় খাদ্যের বাজার হারাচ্ছে থাইল্যান্ড।
এ ব্যাপারে যথেষ্ট ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না বলে যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগের প্রেক্ষিতে এ বছরই মানবপাচারকারীদের নিয়ন্ত্রণে আনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল থাই সরকার।
কিন্তু পাচার হওয়া বাংলাদেশি উদ্ধারের ঘটনার পর ধারণা করা হচ্ছে যে, দেশটিতে সংঘবদ্ধ মানব পাচারকারী চক্র সক্রিয় রয়েছে।