দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশ হবে একটি শান্তিপূর্ণদেশ— উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, এখানে সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদের কোনো স্থান হবে না। মঙ্গলবার রাজধানীতে শেখ রাসেল শিশু কিশোর পরিষদ আয়োজিত আলোচনা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে প্রতিটি মানুষ তার অধিকার নিয়ে বাঁচবে এবং প্রতিটি শিশু বড় হবে অবাধ স্বাধীনতা নিয়ে।
নিজেদের বীরের জাতি হিসেবে মন্তব্য করে তিনি আরো বলেন, বাঙালি জাতি কোনো দিন মাথা নত করেনি আর করবেও না।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘রাসেল বেঁচে থাকলে ৫০ বছর বয়স হতো। আমি চাই আমার দেশের আর কোনো শিশুর ভাগ্য এমন ঘটনা আর না হোক। আমাদের দুভার্গ্য যে এ হত্যাকারীদের এখনো বিচার করা হয়নি। জিয়াউর রহমান এদেরকে পুরস্কৃত করে দূতাবাসে চাকরিও দিয়েছিলো। যারা শিশু হত্যাকারী, নারী হত্যাকারী যারা জাতির পিতাকে হত্যা করেছিলো তাদেরকে বাহবা দিয়েছে, পুরস্কার দিয়েছে খুনি মোশতাক, খুনি জিয়া।’
শেখ হাসিনা আশা প্রকাশ করে বলেন, প্রতিবন্ধী ও দারিদ্রদের অবহেলা না করে সবাইকে সঙ্গে নিয়ে আজকের শিশু-কিশোরই একদিন এ দেশকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যাবে।
তিনি বলেন, ‘সোনার বাংলা গড়তে হলে সোনার ছেলে চাই। তোমরাই তো এদেশের সোনার ছেলে মেয়ে। তোমরা লেখাপড়ায় মনযোগ দিবে, অভিভাবকের কথা শুনবে, শিক্ষকদের কথা মান্য করবে, দরিদ্রদের সাহায্য করবে, অসহায়-পঙ্গুদের সহায়তা করবে কখনো অবহেলা করবে না। এই প্রযুক্তি শিক্ষায় আমাদের ছেলে মেয়েরা শিক্ষিত হবে এবং সুন্দরভাবে বাঁচবে। উন্নত জাতি হিসেবে বাংলাদেশকে মর্যাদার আসনে উন্নিত করবে।’
শিশু ও নারী পাচার রোধে নিজের অবস্থানের কথা উল্লেখ করে তিনি আরো বলেন, সন্ত্রাস ও জঙ্গিমুক্ত দেশ গড়তে কাজ করছে সরকার।
এসময় স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে আবেগ তাড়িত হয়ে রাসেলবিহীন ঊনচল্লিশ বছরের বেদনার কথা তুলে ধরেন শেখ হাসিনা।
আলোচনা শেষে শিক্ষা ও সংস্কৃতিতে বিশেষ অবদানের জন্য বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বিজয়ী শিক্ষার্থীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করেন প্রধানমন্ত্রী।