যুদ্ধাপরাধীদের পক্ষে কথা বলার অভিযোগে আইনমন্ত্রী আনিসুল হককে মন্ত্রিসভা থেকে বাদ দেয়ার চারটি সংগঠন। মঙ্গলবার রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন করে জাতীয় গণতান্ত্রিক লীগ, কাজী আরেফ ফাউন্ডেশন, বাংলাদেশ অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট ফোরাম ও বাংলাদেশ কৃষক পার্টি।
এ সময় মানববন্ধনের ব্যানারে লেখা ছিল ‘নব্য রাজাকার, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃতিকারী পিয়াস করিমের পক্ষ অবলম্বন করার প্রতিবাদে আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের কুশপুত্তলিকা দাহ।’
অধ্যাপক পিয়াস করিমের পক্ষে কথা বলায় তার বক্তব্য প্রত্যাহার করার দাবি জানিয়ে সংগঠনের নেতারা বলেন, পিয়াস করিম হেফাজতে ইসলামকে উস্কে দিয়ে ছিলেন।
এদিকে, অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট ফোরামের সভাপতি কবির চৌধুরী আইনমন্ত্রীকে মন্ত্রিসভা থেকে অপসারণের দাবি জানান।
প্রসঙ্গক, গত রোববার রাজধানীর বিয়ামম মিলনায়তনে ‘জুডিশিয়াল মেডিয়েশন স্কিল ট্রেনিং ফর অ্যাকটিভ জাজেস’ অনুষ্ঠান উদ্বোধনের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপ কালে আনিসুল হক বলেন, ‘আমার জানা মতে, পিয়াস করিমের বাবা কুমিল্লা জেলা আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা কোষাধ্যক্ষ ছিলেন। স্বাধীনতার পক্ষে লিফলেট বিতরণ করায় পিয়াস করিমকে ১৯৭১ সালের মাঝামাঝি সময়ে পাকিস্তান সেনাবাহিনী ধরে নিয়ে কুমিল্লা সার্কিট হাউসে আটকে রেখেছিল। তখন তার বয়স ছিল ১৩ বছর। পরে পিয়াস করিমের বাবা আইনজীবী এমএ করিম পাকিস্তান সেনাবাহিনীর শর্ত মেনে বন্ড সই দিয়ে তাকে ছাড়িয়ে আনেন।’
তিনি বলেন, ‘পাকবাহিনীর শর্ত ছিল, তারা পিয়াস করিমকে মুক্ত করে দেবে। তবে সে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে কোনো কাজ করতে পারবে না, কোনো বৈঠক করতে পারবে না।’
তিনি আরো বলেন, ‘২০-২১ বছর আগে একজন মৃত ব্যক্তি সম্পর্কে এ ধরনের কথা শুনলে আমার খুব কষ্ট লাগে। পিয়াস করিম সম্পর্কে আমি যা বলেছি তা সত্য।’
ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক পিয়াস করিম মারা যাওয়ার পর তার মরদেহ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে নেয়া ঠেকাতে আন্দোলন শুরু করে কয়েকটি সংগঠন। এ নিয়ে চরম বিতর্কের মধ্যে আইনমন্ত্রী কী কারণে এমন বক্তব্য দিলেন, তা নিয়েও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা চলছে।