নাটোরের বড়াইগ্রামে দু’বাসের সংঘর্ষে ৩৬ জনের মৃত্যুর ঘটনায় তিনটি বাসের মালিক, চালক ও তার সহকারীকে দায়ী করে প্রতিবেদন দিয়েছে জেলা প্রশাসনের তদন্ত কমিটি।
প্রতিবেদনে ভয়াবহ এ সড়ক দুর্ঘটনার জন্য কেয়া পরিবহনের চালকের বেপরোয়া গাড়ি চালনোকে দায়ী করেছে তদন্ত কমিটি। এর পাশাপাশি দুর্ঘটনার শিকার লোকজনকে উদ্ধার না করে গাড়ি চাপা দিয়ে পালিয়ে যাওয়ার জন্য হানিফ পরিবহনকেও দায়ী করেছে তারা।
বৃহস্পতিবার দুপুরে সচিবালয়ে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের সাংবাদিকদের সামনে তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন প্রকাশ করেন।
প্রতিবেদনে বলা হয়, হানিফ পরিবহনের এমন কর্মকাণ্ডে দুর্ঘটনায় হতাহতের সংখ্যা বেড়েছে। এজন্য কেয়া ও অথৈ পরিবহনের সঙ্গে হানিফ পরিবহনকেও আইনের আওতায় আনা হবে এ কথা সাংবাদিকদের জানান ওবায়দুল কাদের।
পরে মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, এ ঘটনায় প্রকৃত দোষী অথৈ পরিবহন, কেয়া পরিবহন, হানিফ পরিবহনের মালিক, চালক ও হেলপার। তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এরইমধ্যে এই তিনটি পরিবনে মালিক, চালক ও হেলপারের বিরুদ্ধে দুটি মামলাও করা হয়েছে। তবে হানিফ পরিবহনের অভিযুক্ত বাসটি এখনো চিহ্নিত করতে পারেনি। দুর্ঘটনায় নিহত হওয়া প্রত্যেকে এক লাখ টাকা এবং আহতের চিকিৎসার ব্যয়ভার বহন করার ঘোষণাও দিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী।
মন্ত্রী জানান, কেয়া পরিবহনের বাসটির ফিটনেস সার্টিফিকেট ও রুট পারমিট হালনাগাদ ছিল না। আর অথৈ পরিবহনের রেজিস্ট্রেশন নম্বর ছিল ভুয়া। নিয়ম ভেঙে তারা ছাদে ৪৪ থেকে ৪৬ জন যাত্রী তুলেছিল।
হানিফ পরিবহনের একটি বাস রাস্তায় থাকা যাত্রীদের চাপা দেয় বলে তদন্ত কমিটি জানতে পারলেও ওই বাসটি এবং তার চালককে সনাক্ত করা যায়নি। এ বিষয়ে এখনো অনুসন্ধান চলছে বলে ওবায়দুল কাদের জানান।
ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে ১৭টি সুপারিশ করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, দুই বাসের সংঘর্ষের পর আহত যাত্রীরা যখন রাস্তায় পড়ে ছিলেন তাদের চাপা দিয়েই হানিফ পরিবহনের একটি বাস দ্রুত গতিতে চলে যায়। এতে হতাহতের সংখ্যা আরো বেড়ে যায়।
দুর্ঘটনার দিনই মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে নাটোর জেলা প্রশাসন পাঁচ সদস্যের এ তদন্ত কমিটি গঠন করে। নির্ধারিত সময়ের এক দিন আগেই তাদের প্রতিবেদন মন্ত্রণালয়ে জমা পড়ে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, কেয়া পরিবহনের চালক বেপরোয়া গতিতে বাস চালাচ্ছিলেন। সড়কের পরিস্থিতি ও যানবাহনের গতিবিধি না বুঝেই তিনি একটি ট্রাককে ‘ওভারটেক’ করতে গেলে দুর্ঘটনা ঘটে।
নাটোরের অতিরিক্ত জেলা হাকিম মোহাম্মদ আলীর সঙ্গে সহকারী পুলিশ সুপার (সার্কেল) এবং বিআরটিএ-র একজন সহকারী পরিচালক এই তদন্ত কমিটিতে ছিলেন।