শীর্ষ যুদ্ধাপরাধী গোলাম আযমের মৃত্যুর পর তার জানাজা-দাফন নিয়ে পরিবার ও জামাতে ইসলামী দ্বিমুখী অবস্থানে ছিল। হাসপাতালে গোলাম আযমকে লাইফ সাপোর্টে নেয়ার পর থেকেই সেখানে উপস্থিত হন তার পরিবার, আইনজীবী ও দলের নেতাকর্মীরা। একাত্তরে যুদ্ধাপরাধের দায়ে ৯০ বছরের সাজাভোগের সময়ে একজন কয়েদী হিসেবে তার মৃত্যু হলেও তারা জীবনাবসানকে ভিন্নভাবে উপস্থাপনের চেষ্টা চালান।
যুদ্ধাপরাধী গোলাম আযম তার বয়স ও বার্ধক্যজনিত নানা জটিলতার কারণে সাজা ভোগ করছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালের প্রিজন সেলে। সেখানে আরো অসুস্থ হয়ে পড়লে হাসপাতালের কার্ডিয়াক আইসিইউতে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে গেলে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
মৃত্যুর পর তার ছেলের ভাষ্যে জানা যায় তার জানাজা-দাফন নিয়ে ভিন্ন পরিকল্পনার কথা। বিদেশে থাকা পরিবারের সদস্যদের দেশে ফেরার আগে দাফন না করা এবং জানাযায় আরেকজন অভিযুক্ত যুদ্ধাপরাধী মতিউর রহমান নিজামী যেন ইমামতি করতে পারেন সে প্রত্যাশার কথা জানান।
এদিকে, গোলাম আযমের আইনজীবীরা তার মরদেহের যেন ময়নাতদন্ত না হয় সে ব্যাপারে প্রশাসনের কাছে আবেদন জানান।
সাজাভোগের সময় কয়েদী হিসেবে মৃত্যু হলে তার মরদেহ নিয়ম অনুযায়ী কারা কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়ে থাকে। এ ক্ষেত্রে ময়নাতদন্তেরও বিধান রয়েছে।
এ অবস্থায় গোলাম আযমের পরিবার, আইনজীবী ও দল জামাতে ইসলামীর এ অবস্থানের কারণে তার জানাজা-দাফন বিলম্বিত হতে পারে।
এদিকে, হাসপাতালে জামাতের নেতাকর্মীদের ভিড় দেখা গেলেও মগবাজারে জামাতের অফিস ও গোলাম আযমের বাড়ির সামনে কাউকে দেখা যায়নি।