একাত্তরের রাজাকার শিরোমণি, নরঘাতক গোলম আযম জীবদ্দশায় যেমন মানুষের ঘৃণার পাত্র ছিলেন তেমনি মৃত্যুর পরও নিয়ে গেলেন সেই একই তিরস্কার। শনিবার দুপুরে গোলাম আযমের মৃতদেহ জানাজার জন্য বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে নিয়ে যাওয়ার পথে তার শবদেহ বহনকারী গাড়িতে জুতা ছুড়ে মারে বিক্ষুব্ধ জনতা।
এর আগে ১৯৮১ সালে জীবদ্দশায় বায়তুল মোকাররম মসজিদ থেকে বের হওয়ার সময় তার প্রতি একইভাবে ঘৃণা জানানো হয়। সময়টা ১৯৮১ সালের ১ জানুয়ারি। বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে, ফিলিস্তিনে নিহত দুই বাংলাদেশির জানাজা মাত্র শেষ হয়েছে। জানাজায় অংশ নিয়ে গাড়িতে উঠতে যাচ্ছিলেন রাজাকার গুরু গোলাম আযম।
যার হাতে লাখো মানুষের রক্ত লেগে আছে, তিনি এভাবে প্রকাশ্যে ঘুড়ে বেড়াবেন এটা মেনে নিতে পারেনি দেশের সাধারণ মানুষ। গোলাম আযমকে লক্ষ্য করে সেদিন পায়ের স্যান্ডেল ছুড়ে মারে মানুষ। সেদিন একাত্তরের নরঘাতকের প্রতি এমনটাই ছিল স্বাধীন বাংলাদেশের মানুষের অভিব্যক্তি।
৩৩ বছর পর সেই একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটলো, সেই একই জায়গায়। মৃত্যু পর মানুষের সব কিছু শেষ হয়ে গেলেও, কিছু অপরাধের কোনো ক্ষমা হয় না। জীবদ্দশায় মানুষ যেভাবে তাকে ঘৃণা করেছে, গোলাম আযমের মরদেহ জানাজার জন্য বায়তুল মোকাররম মসজিদে নিয়ে যাওয়ার সময় তার প্রতি সেই একইভাবে জুতা নিক্ষেপ করে ঘৃণা আর তিরস্কার জানায় বিক্ষুব্ধ জনতা।
উল্লেখ্য, মানবতাবিরোধী অপরাধে ৯০ বছর সাজাপ্রাপ্ত গোলাম আযম বৃহস্পতিবার রাতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।