বিশ্বব্যাপী সন্ত্রাসবাদ মোকাবেলায় একযোগে কাজ করার অঙ্গীকার করেছে বাংলাদেশ ও সংযুক্ত আরব আমিরাত। মঙ্গলবার দু'দেশের শীর্ষ নেতা পর্যায়ের বৈঠকের পর বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে দেয়া যৌথ বিবৃতিতে এ কথা জানানো হয়।
এই সফরে দু'দেশের শীর্ষ নেতার মধ্যে ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারণ, অবকাঠামোগত বিনিয়োগ, উচ্চ শিক্ষা, সংস্কৃতি ও পর্যটন এবং জ্বালানি খাতসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয় বলে যৌথ বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
৩ দিনের সংযুক্ত আরব আমিরাতের সফরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দু'দেশের পারস্পারিক স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে সেদেশের সরকারের সঙ্গে আলোচনা করেন। ইউএই'র শীর্ষ নেতার সঙ্গে এসময় বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধি, শিক্ষা ক্ষেত্রে সহযোগিতা বৃদ্ধি, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, জলবায়ু পরিবর্তন ইস্যু নিয়ে আলোচনা হয়।
একইসঙ্গে বিশ্বব্যাপী সন্ত্রাসবাদ বিস্তার লাভ করায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। দু'দেশের শীর্ষ নেতা পর্যায়ে বৈঠকের পর বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে দেয়া যৌথ বিবৃতিতে এসব কথা বলা হয়।
সোমবার দুপুরে দুবাইয়ের জাবিল প্রাসাদে সংযুক্ত আরব আমিরাতের উপ রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী দুবাইয়ের শাসক শেখ মুহাম্মদ বিন রশিদ আল মাকতুমের সঙ্গে বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
এসময় তেলসমৃদ্ধ উপসাগরীয় দেশ আরব-আমিরাতে বাংলাদেশের শ্রমিক নিয়োগের ক্ষেত্রে সকল বাঁধা দূর করতে সে দেশের সরকারের প্রতি আহবান জানান প্রধানমন্ত্রী। জবাবে আমিরাতের প্রধানমন্ত্রী বলেন, দুই দেশের কর্মকর্তা পর্যায়ে আলোচনা করে সমস্যার সমাধান করা যেতে পারে।
এদিকে, সোমবার ওই বৈঠকের পর দুই নেতার উপস্থিতিতে ৩টি চুক্তি স্বাক্ষর হয়। চুক্তিগুলো হচ্ছে, ইউএই ও বাংলাদেশ সরকারের মধ্যে নিরাপত্তা সহযোগিতা, দণ্ডিত বন্দি বিনিময় এবং ঢাকায় ইউএই দূতাবাস নির্মাণে জমি হস্তান্তর।
পরে প্রধানমন্ত্রী রাস আল খায়মারের শাসক সাউদ বিন সাকোর আল কাশেমীর দেয়া মধ্যান্ন ভোজে অংশ নেন।
তিন দিনের এ সফর শেষে সোমবার রাতে দেশে ফিরেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।