মানবতাবিরোধী অপরাধে জামাত নেতা ও আল বদর বাহিনীর প্রধান নিজামীর রায়ে সন্তুোষ প্রকাশ করেছেন সম্মিল্লিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি নাসির উদ্দিন ইউসূফ বাচ্চু। বুধবার ট্রাইব্যুনালে নিজামীর রায়ের পর দেশ টিভিকে তিনি এ কথা বলেন।
এ সময় তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ঊচ্চ আদালতের কাছে আবেদন থাকবে আজ যে রায় হয়েছে আপিল বিভাগেও যেন বহাল থাকে।
তিনি বলেন, ‘আমি খুবই আবেগত্বারিত, কারণ আমার যে বন্ধুরা একাত্তরে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর হাতে গ্রেপ্তার হবার পরে যখন চরম নির্যাতনে শিকার হয়েছিলেন তার আত্মা আজ শান্তি পাবে। ওইসময় কয়েকজন বাঙালি মতিউর রহমান নিজামী ও মুজাহিদীরা ইসলাম ছাত্র সংঘের করে এ নির্যাতন চালিয়ে ছিল। (সেপ্টেম্বর মাস ১৯৭১ সাল) পাকিস্তানি প্রেসিডেন্ট তখন বলেছিলেন তারা সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করবেন। এ সাধারণ ক্ষমা ঘোষণার পূর্বেই তারা সেই সেনা ক্যাম্প ফার্মগেট, তেঁজগাও এলাকা গিয়ে বলেন যে, এসব মুক্তিযোদ্ধাদেরকে শেষ করে দিতে হবে আর পাকিস্তানি সেনাবাহিনী সেই কাজটি সেপ্টেম্বর মাসে করেছিল।’
তিনি আরো বলেন, ‘সেই নরঘাতকের বিচার হয়েছে এবং তার সর্বোচ্চ শাস্তি ফাঁসির দণ্ড কার্যকর করার জন্য আদালত রায় দিয়েছে। এতে আমরা সন্তোষ প্রকাশ করছি। শুধু মুক্তিযোদ্ধাদের হত্যার বিচার পেয়েছি, তা নয় বরং যারা বুদ্ধিজীবী হত্যার পাশাপাশি নিরীহ জীবন যাপন করা মানুষদের ১৯৭১ সালে হত্যার যে মূল প্রণেতা তার বিচার পেয়েছি।’
বাচ্চু বলেন, ‘মানবাধিকার লঙ্ঘন করার জন্য সুনির্দিষ্ট অভিযোগে একজন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব যিনি ১৯৭১ সালে বাংলাদেশ রাষ্ট্রের বিরোধিতা করেননি গণহত্যায় অংশ নিয়েছিলেন। আর গণহত্যার প্রকৌশলী হিসেবে তাকে ধরা হয়। তাকে আজ মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়েছে, এটির চেয়ে সন্তুষ্টির আর কি খবর থাকতে পারে আমাদের জীবনের।’
এ সময় সাংস্কৃতি জোটের সাধারণ সম্পাদক বলেন, স্বাধীন দেশে কেউ অপরাধ করে পার পায়নি এবং পার পাবে না। অন্যায়ের কাছে এ জাতি কখনো মাথা নতো করেনি, তারই আজ প্রমাণ হয়েছে। এ জাতি মাথা নোয়াবার নহে। এ বিচারের মাধ্যমে তা প্রমাণিত হয়েছে। দেশে এখনো আইনের শাসন আছে।
তিনি বলেন, ‘১৯৭১ এর পরে আজ ৪৪ বছর পরে এ জাতি সবচেয়ে মাথা উচু করে দাঁড়াবার শক্তি অর্জন করেছে আমরা বলতে পারি। স্বাধীন দেশে লাখো শহীদের হত্যাকারীদের বিচার হয়েছে। সে যতো ক্ষমতাবান হোক না কেন আইনের মুখোমুখি হতে হয় এবং তার যোগ্য শাস্তি পেতে হবে।’