মানবতাবিরোধী অপরাধে জামাত নেতা ও আলবদর নেতা মতিউর রহমান নিজামীর মামলার রায়ে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী তুরিন আফরোজ ট্রাইব্যুনালের এ রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন। বুধবার রায় ঘোষণার পর সাংবাদিকদের কাছে এ মন্তব্য করেন তিনি।
প্রথমেই হচ্ছে যে আমরা একটি সত্য প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে নেমেছি— ৪০ বছর পর এ যুদ্ধে আমরা নেমেছি। এমনিতেই অনেক সময় পার হয়ে গেছে। না না প্রতিকূলতার মধ্যে দিয়ে আমরা এগিয়েছি। তারপরও আজকে যখন সত্য প্রতিষ্ঠায় আমরা সফল হয়েছি আমরা অত্যন্ত খুশি। দেরিতে হলেও এ যুদ্ধে আমরা জয়ী হয়েছি, সত্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছি।
গণহত্যা ছাড়াও অন্যান্য যে অপরাধগুলো ছিলো সেখান থেকেই আসলে ফাঁসির আদেশ এসেছে, অন্যগুলোতে যাবজ্জীবন এসেছে। তবে ফাঁসির জায়গা থেকে বলেছে এভাবে যে ব্যাপকভাবে ঢালাওভাবে হত্যা করেছে বুদ্ধিজীবীদের, নিরস্ত্র মানুষকে, পেশাজীবীদেরকে নিধন করা হয়েছে। আসলে বিশ্বে এমন নিধোনযজ্ঞের নির্দশন খুবই কম। অপরাধের ভয়াবহতা এতো বেশি যে এখান থেকে মৃত্যুদণ্ড ছাড়া আর কোনো শাস্তি প্রযোজ্য হতে পারে না বলে জানান তিনি।
প্রথমত একজন রাজনীতিবিদ আসামি কখনোই আইনের উর্ধ্বে নয়। তিনি যতই ক্ষমতাবান হোক না কেনো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে আইন সবার জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য হবে। এটি আমার কাছে চমৎকার একটি অবজারভেশন, আরেকটি হলো আলবদর সংগঠনটি ব্যাখ্যা করার সময় ট্রাইবুন্যাল জানায় যে, ক্রিমিনাল সংগঠন তো বটেই এটাকে আজকে নতুন করে আখ্যায়িত করেছে যে এটি একটি সাম্প্রদায়িক সংগঠন।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ রাষ্ট্র ধর্ম নিরপেক্ষ রাষ্ট্র। আমাদের অন্যতম মূলনীতি হলো ধর্ম নিরপেক্ষতা। একটি রাষ্ট্রে ধর্মনিরপেক্ষতা ও ধর্মের অবমানতা করাকে উস্কানি দেয়া হয়, ধর্মের অপব্যবহার করে নিজামী তরুণ সমাজকে বিভ্রান্ত ও উজ্জীবিত করেছেন। এসমস্ত সংগঠনকে ট্রাইবুন্যাল মনে করেন সাম্প্রদায়িক সংগঠন।
সূচনা বক্তব্য ট্রাইবুনাল জানায় , নিজামী সাহেবের মামলাটি নিয়ে সুদীর্ঘ সময় অতিবাহিত হয়েছে এবং এ দীর্ঘ সময়ের কারণে নানা মহল থেকে নানা সমালোচনা এসেছে। নানা সমালোচনা করা হোক না কেনো এর উত্তর আমরা দিতে পারি না, কারণ ট্রাইবুন্যাল কথা বলেন না। এটাকে মাথায় রেখেই আপনাদের সমালোচনার জায়গাটি রাখতে হবে এবং তারা একটি যোগ্য সময় বিবেচনা করেই জায়গাটি রেখেছে।