জাতীয় গ্রিডে দুই দফা বিপর্যয়ের কারণে শনিবার বেলা সাড়ে ১১টা থেকে বিদ্যুৎ নেই রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশের বিভিন্ন জায়গায়। ভারত থেকে আনা ৪৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইনে ত্রুটির কারণে দেশের বেশ কয়েকটি বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এ বিপর্যয় ঘটে। ত্রুটি সারতে গিয়ে বিকেলে আবারো বিপর্যয় দেখা দেয় জাতীয় গ্রিডে।
জরুরি ভিত্তিতে মেরামত কাজ চলছে এবং সন্ধ্যার মধ্যে বিদ্যুতের পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে—উল্লেখ করে দেশ টিভিকে টেলিফোনে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু বলেন, দ্রুত মেরামত কাজ চলছে এবং শিগগিরই পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে যাবে। এ বিষয়ে ৭ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। আগামী তিন দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দেওয়ার নির্দেশও দেয়া হয়েছে।
এদিকে, বিদ্যুৎ সরবারাহ না থাকায় শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ বিভিন্ন অফিস আদালত, শপিং মলসহ বিভিন্ন জায়গায় বিকল্প ব্যবস্থায় কার্যক্রম চলছে। বিদ্যুতের অভাবে হাসপাতালে রোগীরা দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। এসব প্রতিষ্ঠান ছাড়াও বাসা বাড়িতেও সাধারণ মানুষকে বিদ্যুতের অভাবে ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে।
শনিবার দেশে বিদ্যুতের চাহিদা ৬ হাজার ৬০০ মেগাওয়াট হলেও বেলা ৩টা পর্যন্ত মাত্র ৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব হয়েছে।
এ সময় পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশ লিমিটেডের (পিজিসিবি) এমডি এক লিখিত বিবৃতিতে জাতীয় গ্রিডে বিপর্যয়ের কারণ ব্যাখা করেন।
বৈঠক শেষে জানানো হয়, ঢাকা মেডিকেল, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, কূটনৈতিক পাড়াসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে বিদ্যুৎ সরবাহ শুরু হয়। এরপর কারিগরি ত্রুটি সাড়াতে গিয়ে বিকেলের দিকে আবারো জাতীয় গ্রীডে বিপর্যয় দেখা দেয়। ফলে সন্ধ্যায় আবার এসব স্থানে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়।
এদিকে, সর্বশেষ খবর অনুযায়ী, ঘোড়াশাল বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ৬টি, আশুগঞ্জ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ৯টি ও চট্টগ্রাম বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ৭টি ইউনিট বন্ধ হয়ে গেছে। যার প্রভাব পড়েছে সারাদেশের বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইনে।
জাতীয় গ্রিডের বিপর্যয়ের কারণে দেশের বৃহত্তম আগুগঞ্জ বিদ্যুৎকেন্দ্রের ৯টি ইউনিটের উৎপাদন একসঙ্গে বন্ধ হয়ে যায়। এতে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহে বিপর্যয় দেখা দেয়। এ ইউনিটগুলো বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কিশোরগঞ্জ, হবিগঞ্জ, নরসিংদীসহ আশপাশের কয়েকটি জেলায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে।
কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা বিদ্যুৎ উপকেন্দ্রের ত্রুটির কারণে জাতীয় গ্রিডে বিপর্যয় দেখা দেয়। জাতীয় গ্রিডে ত্রুটি সারাতে প্রকৌশলীরা কাজ করছেন। তবে কখন বিদ্যুত উৎপাদন ও সরবরাহ স্বাভাবিক হবে তা জানাতে পারেনি কর্তৃপক্ষ।
বিভাগীয় শহর চট্টগ্রামেও বিদ্যুৎ না থাকায় বাসা বাড়ি ও বাণিজ্য কার্যালয়ের মানুষজন সীমাহীন দুর্ভোগে পড়েছেন। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের কয়েকটি বিভাগে বিকল্প ব্যবস্থায় বিদ্যুৎ সরবরাহ করে কাজ চালিয়ে গেলেও বিপাকে পড়েছেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও রোগীরা।
এদিকে, বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ার পর বিকল্প ব্যবস্থায় চট্টগ্রাম শাহ আমানত আর্ন্তজাতিক বিমান বন্দরের কার্যক্রম চলছে বলে জানান বন্দর কর্তৃপক্ষ।
বিদ্যুৎ বিপর্যয় বিভাগীয় জেলা খুলনাতেও। হাসপাতালগুলোতে বিকল্প পদ্ধতিতে বিদ্যুৎ দেয়া হচ্ছে। তবে বাসা-বাড়ি ও অফিস আদালতগুলোতে এখনো নেই বিদ্যুৎ।
এদিকে, বিদ্যুৎ সংঙ্কটে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন গাজীপুরের মানুষ। বেশিরভাগ হাসপাতালেই বিদ্যুৎতের অভাবে অপারেশন ও রোগ নির্ণয় পরীক্ষা নিরীক্ষা বন্ধ রাখা হয়েছে।
দেশের অধিকাংশ জায়গায় বিদ্যুৎ নেই। এরইমধ্যে ইন্টারনেট ব্যবস্থাও নাজুক হয়ে পড়েছে। বিদ্যুৎ না থাকায় পানি সরবরাহ নিয়েও চিন্তিত মানুষ।