মানবতাবিরোধী অপরাধে দণ্ডিতদের যেন রাষ্ট্রপতি কখনোই ক্ষমা করতে না পারে এ জন্য সংবিধান সংশোধনের প্রস্তাব করেছেন আইনজ্ঞ ও বিশিষ্টজনরা। তাদের মতে বর্তমান সরকার সারাজীবন ক্ষমতায় থাকবে না। ভবিষ্যতে যাতে মানবতা বিরোধী অপরাধীরা আইনের অপব্যবহারের সুযোগ নিতে না পারে, সে জন্যই সংবিধানের ৪৯ অনুচ্ছেদের সংক্ষিপ্ত সংশোধনী করা দরকার।
মানবতাবিরোধী অপরাধের ১০ মামলায় এ পর্যন্ত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ১১ জনকে সাজার মধ্যে ৮ জনকে দেয়া হয় মৃত্যুদণ্ড। পরে আপীলের রায়ে ট্রাইব্যুনালে মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্ত দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর সাজা কমিয়ে আজীবন কারাদণ্ড দেয়া হয়।
এ রকম বাস্তবতায় গণজাগরণ মঞ্চসহ বিভিন্ন মহল থেকে রাষ্ট্রপতির সাধারণ ক্ষমা ঘোষণার এখতিয়ারে যুদ্ধাপরাধীদের প্রশ্নে শর্ত প্রয়োগের দাবি উঠে।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ৩০ আক্টোবর সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেন, রাষ্ট্রপতির ক্ষমা করার ক্ষমতা কমানোর প্রয়োজন নেই।
তবে আইনজ্ঞরা মনে করেন, মানবতাবিরোধী অপরাধের দণ্ডিতরা যাতে ভবিষ্যতে, ক্ষমতার রাজনৈতিক কুটচালে আইনের ফাঁক গলিয়ে পার পেতে না পারে, সেজন্যই সংবিধান সংশোধন জরুরি।
আইনজ্ঞ অ্যাডভোকেট শাহদীন মালিক বলেন, সংবিধানের প্রথম সংশোধনীও হয়ে ছিলো যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের প্রশ্নে সংবিধানের মৌলিক অধিকার রহিতের শর্ত জুড়ে।
এদিকে, একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি খুলনায় এক সংবাদ সম্মেলনে মুক্তিযুদ্ধের সময় নির্যাতনের শিকার পরিবারগুলোর সন্তুষ্টি ও প্রকৃত অপরাধীদের শাস্তি নিশ্চিত করতে সংবিধান সংশোধনের দাবি জানিয়েছে।