আলবদর কমাণ্ডার কামারুজ্জামানের মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে ট্রাইব্যুনালের দেওয়া সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড আপিল বিভাগে বহাল থাকায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন বিশিষ্টজনরা। রায়কে স্বাগত জানিয়ে তারা বলেন, এ রায়ের দ্রুত বাস্তবায়ন দেখতে চান তারা। এর মধ্য দিয়ে জাতির বহুদিনের আকাঙ্খা পূরণ হলো বলেও এ সময় মন্তব্য করেন তারা।
সোমবার সাংবাদিকদের এ সন্তোষ প্রকাশের কথা জানান বিশিষ্টজনরা।
রায়কে স্বাগত জানিয়ে তারা বলেন, এ রায়ের দ্রুত বাস্তবায়ন দেখতে চান। এর মধ্য দিয়ে জাতির বহুদিনের আকাঙ্খা পূরণ হলো বলেও এ সময় মন্তব্য করেন বিশিষ্টজনেরা।
সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি নাসিরউদ্দিন ইউসুফ বাচ্চু বলেন, ‘একটি শহীদ পরিবার কি পেয়েছে? কিছুই পায়নি। ৯০% মুক্তিযোদ্ধা কিছুই পায়নি। তবে কি পেতে চেয়েছিলো? তারা পেতে চেয়েছিলো স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র, যেখানে ন্যায় শাসন থাকবে, আইন দ্বারা পরিচালিত হবে, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার হবে, অন্যায়কারীদের বিচার হবে। কিন্তু আমরা একটি কাঙ্খিত রাষ্ট্র তৈরি করতে পারিনি। আজকের রায় বা গতকালের রায় বা তারও আগের কয়েকটি রায় এ রায়গুলোর যেটি আমাদের ভালো লাগছে সেটি হলো ন্যায়ের পথে হাঁটার পথ তৈরি হয়েছে বলে আমরা মনে করি।
সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সাধারণ সম্পাদক হাসান আরিফ বলেন, ‘আমি মনে করি গত ও একটি সপ্তাহ ধরে বিশেষ করে আইসিটির ২টি রায় ও সুপ্রিম কোর্টে কামারুজ্জামানের রায়ের মধ্যে দিয়ে সকল দ্বিধা, সংশয় আস্তে আস্তে দূর হয়ে যাচ্ছে। আমাদের দীর্ঘ প্রতিক্ষা ছিলো বাংলাদেশের মাটিতে যুদ্ধাপরাধীর বিচার হবে। সেই যুদ্ধাপরাধীদের বিচার কাজ সম্পন্ন হচ্ছে এটি হচ্ছে আমাদের সবচেয়ে বড় আশার দিন। একইসঙ্গে মনে করি সোহাগপুরের সেই গ্রাম যেখানে ১২০ জনকে হত্যা করে বিধবা গ্রামে পরিণত করা হয়েছিলো, সেই গ্রামের অসংখ্য স্বজনেরা নিশ্চই প্রতিক্ষার অপেক্ষায় ছিলেন তাদের সঙ্গে বিশ্ববাসী অবলোকন করছে সত্যের জয় কত সুন্দর।’
‘এ রায় যেমন অপরাধীকে চিহ্নিত করছে, এ রায় অপরাধীদের যে মূল্যবোধ যা ধর্মের অপব্যবহার করে, ঘৃণার সঞ্চার করে, রক্ত গঙ্গা বইয়ে দেয় সমাজে তাকে যেমন অভিযুক্ত করছে তেমনি তার বিপরীতে মানবিকতার যে মূল্যবোধ, মুক্তিযুদ্ধের যে মূল্যবোধ অসাম্প্রদায়িক, গণতান্ত্রিক, উদার সমাজ গড়ে তোলার যে মূল্যবোধ তার প্রতিষ্ঠা ঘটাচ্ছে। ফলে আমি বলবো যে বাংলাদেশের ইতিহাসের নতুন পথ উন্মোচন করছে। তারপর দেশ যেন সেই নতুন অভিযাত্রায় এগিয়ে যায় এটাই আমাদের প্রত্যাশা।’ বলেও জানান তিনি।
এ রায়ে জাতীর দীর্ঘ দিনের আশা আকাঙ্খার প্রতিফলন হয়েছে বাদবাকি যুদ্ধাপরাধীদেরও সর্বোচ্চ সাজা হবে বলে আশা করেন অধ্যাপক আনোয়ার হোসেন।
যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের মধ্যমে দেশ কলঙ্কমুক্ত হচ্ছে উল্লেখ করে আইনের পথে বিচারহীনতার অবসান ঘটছে বলে মনে করেন মুক্তিযুদ্ধ যাদুঘের ট্রাস্টি মুফিদুল হক।
সকালে মুক্তিযুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধে শেরপুরের জামাত-আলবদর নেতা মোহাম্মদ কামারুজ্জামানের মৃত্যুদণ্ডাদেশ বহাল রেখে আপিল বিভাগ। সোমবার আপিল বিভাগের জ্যেষ্ঠ বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বাধীন ৪ বিচারপতির বেঞ্চ এ রায় দিয়েছে।
বেঞ্চের অপর তিন সদস্য হলেন: বিচারপতি মো. আবদুল ওয়াহাব মিঞা, বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী ও বিচারপতি এ এইচ এম শামসুদ্দিন চৌধুরী।
গত বছরের ৯ মে ময়মনসিংহের আল-বদর প্রধান কামারুজ্জামানকে মৃত্যুদণ্ড দেয় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। রায়ে হত্যা ও গণহত্যার দুটি অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় জামাতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল কামারুজ্জামানকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়। অন্য দুটি অভিযোগে তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং আরেকটিতে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেয়া