রিভিউ পিটিশনের নিষ্পত্তির পরই মানবতাবিরোধী অপরাধে ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত বদর কমান্ডার কামারুজ্জামান রাষ্ট্রপতির কাছে ক্ষমা চাওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন –জানিয়েছেন তার আইনজীবী অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির। বৃহস্পতিবার ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে কামারুজ্জামানের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।
শিশির মনির বলেন, আপিলের চূড়ান্ত রায়ের পূর্ণাঙ্গ কপি পাওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে রিভিউ আবেদন করা হবে।
কামারুজ্জামানের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের প্রস্তুতি নিতে আইনমন্ত্রীর নির্দেশ গ্রহণযোগ্য নয়--এ কথা উল্লেখ করে তিনি আরো বলেন, আইনের ব্যতয় ঘটিয়ে জেল কর্তৃপক্ষকে মন্ত্রী এমন নির্দেশ দিয়েছেন।
এর আগে সকাল ১০টা ২০ মিনিটে কামারুজ্জামানের সঙ্গে দেখা করতে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে যান আইনজীবী ব্যারিস্টার এহসান এ সিদ্দিক, ব্যরিস্টার নাজিব মোমেন, অ্যাডভোকেট মতিউর রহমান আকন্দ, অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির ও অ্যাডভোকেট মশিউল আলম।
কারাগারের ভেতরে যাওয়ার আগে শিশির মনির বলেন, আপিল বিভাগের রায়ের বিরুদ্ধে রিভিউ করার ব্যাপারে কামারুজ্জামানের সঙ্গে আলোচনা করতে তারা কারাগারে যাচ্ছেন।
গত বুধবার কামারুজ্জামানের স্ত্রী, ছেলে-মেয়েসহ পরিবারের ১০ জন সদস্য ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে যান।
এদিকে, গতকাল (বুধবার) বিকেলে গুলশানে নিজ বাসভবনে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক সাংবাদিকদের বলেন, মুক্তিযুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধে শেরপুরের জামাত-আলবদর নেতা মোহাম্মদ কামারুজ্জামানের ফাঁসির রায় কার্যকরে প্রস্তুতি নিতে জেল কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
মৃত্যুদণ্ডাদেশের রায় কার্যকরের ব্যাপারে সংবাদ সম্মেলনে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেন, ‘এ যে সাত দিন দেয়া আছে জেলকোড অনুসারে এটাই হচ্ছে সঠিক সময়, তাকে এ সাত দিন দেয়া হবে। এরমধ্যে মাহামান্য রাষ্ট্রপতির কাছে ক্ষমা চাইতে পারেন। সেই ক্ষমা চাওয়ার নিয়ম দোষ শিকার করে কামারুজ্জামান ক্ষমা চেয়ে রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষা চাইতে পারেন। এখন সেটার অপেক্ষায়।’
মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে ৩ নভেম্বর আপিল বিভাগ কামারুজ্জামানের মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখে রায়ে দেয়। এরপর গাজীপুরের কাশিমপুর কারাগার থেকে ৪ নভেম্বর কামারুজ্জামানকে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে নেয়া হয়।
উল্লেখ্য, রাজধানীর পল্লবী থানায় করা একটি মামলায় ২০১০ সালের ১৩ জুলাই কামারুজ্জামানকে গ্রেপ্তার করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। ওই বছরের ২ অক্টোবর তাকে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। ২০১২ সালের ৪ জুন ট্রাইব্যুনাল-২ তার বিরুদ্ধে সাতটি অভিযোগ গঠন করা হয়।
গত বছরের ৯ মে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ কামারুজ্জামানকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দিলে ৬ জুন তিনি উচ্চ আদালতে আপিল করেন।