মুক্তিযোদ্ধা সনদ জালিয়াতি করে চাকরির মেয়াদ বাড়ানো আরেক সচিব এ কে এম আমির হোসেনকেও স্বেচ্ছা অবসরে যেতে বাধ্য হয়েছেন। তিনি সরকারি কর্মকমিশনের (পিএসসি) সচিব ছিলেন।
এর আগে স্বাস্থ্যসচিব মো. নিয়াজ উদ্দিন স্বেচ্ছায় অবসরে পাঠানো হয়।
বেলা ১১টার দিকে স্বাস্থ্যসচিব মো. নিয়াজ উদ্দিনকে স্বেচ্ছায় অবসরে যাওয়ার চিঠি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে পৌঁছায়। আর আমির হোসেনের চিঠি দুপুরে পৌঁছেছে বলে জানিয়েছেন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সচিব কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী।
সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় সূত্র মতে, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে একটি চিঠি পাঠানো হয়। এতে বলা হয়, শারীরিক ও মানসিকভাবে স্বাস্থ্যসচিব এমএম নিয়াজ উদ্দিন মিয়া অসুস্থ। তাই তিনি স্বেচ্ছা অবসরে যেতে যান। আগামী ৩১ ডিসেম্বর তার চাকরির মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা।
স্বাস্থ্যসচিব মো. নিয়াজ উদ্দিন মিঞাসহ বেশ কয়েকজন ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তা মুক্তিযোদ্ধা সনদ জালিয়াতি করে চাকরির মেয়াদ বাড়িয়েছেন বলে অভিযোগ ওঠে। এ বিষয়ে প্রথম আলোতে গত ২২ জানুয়ারি ‘চাকরির শেষ সময়ে মুক্তিযোদ্ধা সনদ নেওয়ার হিড়িক’ শিরোনামে একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।
বিষয়টি খতিয়ে দেখতে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মুক্তিযোদ্ধা না হয়েও মো. নিয়াজ উদ্দিন মিঞা মুক্তিযোদ্ধার সনদ নিয়ে অসদাচরণের অপরাধ করেছেন। এরপর মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয় তার সনদ বাতিল করে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়া হয়। তিনি গত সপ্তাহে এর জবাব দেন। কিন্তু বাকি যাদের সনদ ভুয়া প্রমাণিত হয়েছে, তাদের বিষয়ে কিছু জানা যায়নি।
মুক্তিযোদ্ধা সনদ জালিয়াতির অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় মো. নিয়াজ উদ্দিন মিঞাসহ তিন সচিব ও এক যুগ্ম সচিবের মুক্তিযোদ্ধা সনদ বাতিল করে প্রজ্ঞাপন জারি করে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়। দুর্নীতি দমন কমিশন ও জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলের (জামুকা) সুপারিশে ২২ সেপ্টেম্বর গেজেট বাতিল করে মন্ত্রণালয়। জামুকার বৈঠকে সনদ বাতিলের সিদ্ধান্ত হওয়ার নয় দিন পর মন্ত্রণালয় প্রজ্ঞাপন প্রকাশ করে।