রোহিঙ্গা শরণার্থীদের বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ বন্ধে একটি ফলপ্রসূ উপায় খুঁজে বের করতে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের একসঙ্গে কাজ করা উচিত। কারণ এ অনুপ্রবেশ বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক অঙ্গনে ব্যাপক সমস্যা সৃষ্টি করছে জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ।
রোববার বেইজিংয়ে মিয়ানমারের প্রেসিডেন্ট উ থেইন সেইনের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠককালে রাষ্ট্রপতি এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, রাখাইন প্রদেশ থেকে বাংলাদেশে মিয়ানমার শরণার্থীদের অনুপ্রবেশ বাংলাদেশে ব্যাপক আর্থ-সামাজিক সমস্যা সৃষ্টি করছে এবং বান্দরবান ও কক্সবাজার জেলার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটাচ্ছে। এ সমস্যা সমাধানে উভয়দেশের উচিত একসঙ্গে কাজ করা।
বৈঠক শেষে রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব ইহসানুল করিম জানান, ১৯৯১-৯২ সাল থেকে বিপুল সংখ্যক মিয়ানমারের নাগরিকের সীমান্ত অতিক্রম করে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশের ফলে সৃষ্ট মারাত্মক সমস্যা সম্পর্কে মিয়ানমারের প্রেসিডেন্টকে অবহিত করা হয়েছে। বৈঠকে দ্রুত প্রত্যাবাসনের মাধ্যমে বাংলাদেশে বসবাসরত শরণার্থীদের ফিরিয়ে নেয়ার জন্য দেশটির সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।
প্রেসসচিব বলেন, মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ এ ব্যাপারে আরো প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়ার আশ্বাস দেন। রাষ্ট্রপতি মাদক উৎপাদন ও চোরাকারবারী প্রতিরোধে দু’দেশের মধ্যে সহযোগিতা জোরদারের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন।
বৈঠকে আবদুল হামিদ বলেন, বাংলাদেশ মিয়ানমার থেকে গ্যাস আমদানি করতে আগ্রহী। তিনি বাণিজ্যিক ব্যবধান কমিয়ে আনতে বাংলাদেশ থেকে ওষুধ ও পাটজাত পণ্য আমদানির প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন।
রাষ্ট্রপতি উভয় দেশের মধ্যে সরাসরি সড়ক ও রেল যোগাযোগ স্থাপনের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন। এতে স্বল্প খরচে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে পণ্য ও সেবা পরিবহন সহজ হবে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ দু’দেশের মধ্যে সমুদ্র পথে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপনে আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্নে প্রস্তুত রয়েছে।
তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশ মিয়ানমারের সঙ্গে সম্পর্ককে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে থাকে। আস্থা ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার ভিত্তিতে এ সম্পর্ক আরো গভীর হবে বলে বৈঠকে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়।
রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ মিয়ানমারের প্রেসিডেন্ট উ থেইন সেইনকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান। আমন্ত্রণ গ্রহণ করে তিনিও আবদুল হামিদকে মিয়ানমার সফরের আমন্ত্রণ জানান। সূত্র: বাসস।