বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গা শরণার্থীদের দ্রুত প্রত্যাবাসনের মাধ্যমে ফিরিয়ে নিতে মিয়ানমারের প্রেসিডেন্টের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদ। রোববার বেইজিংয়ে মিয়ানমারের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠকে তিনি এ আহ্বান করেন। প্রেসিডেন্ট থেইন সেইন এ বিষয়ে ইতিবাচক সাড়া দেন বলে জানান রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব ইহসানুল করিম।
এদিকে, অ্যাপেকের সিইও শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিয়ে রাষ্ট্রপতি সংস্থাটির সদস্য হতে বাংলাদেশের গভীর আগ্রহের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন।
শনিবার বেইজিংয়ের ফাং হুয়া হলে অ্যাপেক সিইও শীর্ষ সম্মেলনের অংশ হিসেবে কানেকটিভিটি পার্টনারশিপ জোরদার বিষয়ক এক সংলাপ অনুষ্ঠানে বক্তৃতা প্রদানকালে এ কথা বলেন তিনি।
আঞ্চলিক আর্থ-সামাজিক অগ্রগতির জন্য সুযোগ সৃষ্টির ক্ষেত্রে বাংলাদেশ, চীন, ভারত, মিয়ানমার অর্থনৈতিক করিডোর- বিসিআইএম-ইসি খুবই গুরুত্বপূর্ণ বলে মন্তব্য করেছেন রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদ।
রাষ্ট্রপতি বলেন, চীনের জন্য বিসিআইএম-ইসি প্রাচীন দক্ষিণাঞ্চলীয় সিল্ক রোড পুনরায় চালু করার ক্ষেত্রে সহায়ক হবে। অন্যান্য দেশগুলোর জন্যও এই করিডোর আর্থ সামাজিক অগ্রগতির সুযোগ সৃষ্টি এবং জীবনমান উন্নয়নে সহায়ক ভূমিকা রাখবে।
এদিকে, রোববার সম্মেলনের দ্বিতীয় দিনে সিইও শীর্ষ সম্মেলনের এক অধিবেশনে রাষ্ট্রপতি বলেন, বাংলাদেশ এরইমধ্যে অ্যাপেকের সদস্য হওয়ার ব্যাপারে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। একইসঙ্গে নতনু সদস্য নেয়ার ওপর থেকে এশিয়া প্যাসিফিক ইকোনমিক কো-অপারেশন-অ্যাপেক তার স্থগিতাদের প্রত্যাশা করবেন বলে আশা ব্যক্ত করেন তিনি।
সম্মেলনের পাশাপাশি মিয়ানমারের প্রেসিডেন্ট থেইন সেইনের সঙ্গেও দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেন রাষ্ট্রপতি।
বৈঠকে রাষ্ট্রপতি বলেন, রাখাইন প্রদেশে থেকে বাংলাদেশে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের অনুপ্রবেশ এদেশে ব্যাপক আর্থ-সামাজিক সমস্যা সৃষ্টি করছে এবং বান্দনবান ও ক্ক্সবাজার জেলার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটছে বলে জানান মিয়ানমারের প্রেসিডেন্টকে। দ্রুত প্রত্যাবাসনের মাধ্যমে বাংলাদেশের বসবাসরত শরণার্থীদের ফিরিয়ে নেওয়ার জন্য মিয়ানমারের প্রেসিডেন্টের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।