রাজধানীতে কী পরিমাণে অবৈধ যানবাহন চলাচল করে তার পরিসংখ্যান বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন অধিদপ্তর (বিআরটিএ)-এর কাছে নেই বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।
মঙ্গলবার দশম জাতীয় সংসদের চতুর্থ অধিবেশনে ঢাকা-১৫ আসনের সংসদ সদস্য কামাল আহমেদ মজুমদারের তারকা চিহ্নিত প্রশ্ন ২০৮-এর জবাবে এ তথ্য জানান তিনি।
মন্ত্রী বলেন, এ মহানগরীতে বৈধ যানবাহনের পরিসংখ্যান থাকলেও জানা নেই অবৈধ যানবহনের সংখ্যা, বর্তমানে ঢাকাতে ৮ লাখ ৫৩ হাজার ৩০৪টি যানবাহন চলাচল করছে। এরমধ্যে, ২১ হাজার ৬১৬টি বাস, মিনিবাস ৯৯০৪টি, প্রাইভেটকার ২ লাখ ৩০ হাজার ৩৩টি, মোটরসাইকেল ৩ লাখ ৩১ হাজার ৭৪৬টি। এছাড়াও অন্যান্য যানবাহন রয়েছে ২ লাখ ৮৭ হাজার ৫টি।
মন্ত্রী আরও জানান, অবৈধ যানবাহন যাতে ঢাকা শহরে চলাচল করতে না পারে সে জন্য নিয়মিতভাবে বিআরটিএর অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। এর পাশাপাশি আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকেও নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।
এ কে এম মাইদুল ইসলামের অপর এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, সড়ক সংস্কার একটি চলমান প্রক্রিয়া। যান চলাচলের জন্য সারা বছরই সড়ক সংস্কারের কাজ করা হয়। তবে বর্ষা মৌসুমে সড়কের ক্ষয়ক্ষতি বেশি হয় বলে ওই সময় সংস্কারের কাজও বেশি হয়।
নুরজাহান বেগমের অপর অন্য এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, বর্তমানে দূরপাল্লার বিভিন্ন রুটে ২৬৭টি বিআরটিসি বাস চলাচল করছে।
তিনি আজ সংসদে সরকারি দলের আমাতুল কিবরিয়া কেয়া চৌধুরীর এক প্রশ্নের জবাবে আরও বলেন, দেশের জাতীয় মহাসড়কের দৈর্ঘ্য ৩ হাজার ৮১২ দশমিক ৭৮ কিলোমিটার এবং আঞ্চলিক আঞ্চলিক মহাসড়কের দৈর্ঘ্য ৪ হাজার ২৪৬ দশমিক ৯৭ কিলোমিটার। দেশে মোট মহাসড়কের দৈর্ঘ্য ৮০৫৯ দশমিক ৭৫ কিলোমিটার।
সরকারি দলের বেগম রহিমা আখতারের অপর এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ইতোমধ্যে রুটিন মেরামতের মাধ্যমে দেশের অধিকাংশ সড়ক মেরামত করা হয়েছে। এছাড়া চলতি অর্থবছরে মেজর ও মাইনর পিরিয়ডিক মেইনটেন্যান্স প্রোগ্রামের মাধ্যমে ৩ হাজার কিলোমিটার সড়ক সংস্কারের কার্যক্রম হাতে নেয়া হয়েছে। শুষ্ক মৌসুমের আগেই সংস্কার কাজ শেষ হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
মহাসড়কের ১৪৪টি দুর্ঘটনাপ্রবণ স্থান চিহ্নিত
অ্যাডভোকেট মো. জিয়াইল হক মৃধার অপর এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, সড়ক দুর্ঘটনা রোধে নিরাপদ সড়ক নিশ্চতকরণের লক্ষ্যে জাতীয় মহাসড়কের ১৪৪টি দুর্ঘটনাপ্রবণ স্থান চিহ্নিত করা হয়েছে।
মন্ত্রী বলেন, এজন্য সরকারি অর্থায়নে ৬৫ কোটি টাকা ব্যয়ে ‘ইমপ্রুভমেন্ট অব রোড সেফটি অ্যাট ব্ল্যাক স্পট ইন ন্যাশনাল হাইওয়ে’ শীর্ষক একটি প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের ৪০টি ব্ল্যাক স্পটের মধ্যে ৩৩টি অন্তভুক্ত করা হয়েছে এ প্রকল্পে। বাকি ৭টি সড়ক পরিবহন রক্ষণাবেক্ষণ সওজ এর মাধ্যমে ইতোমধ্যে প্রতিকারমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।