মুক্তিযোদ্ধা সনদ জালিয়াতি নিয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য নেই দুর্নীতি দমন কমিশন-দুদকের কাছে তবে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়েই খতিয়ে দেখছে সংস্থাটি জানিয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তা সচিব মাকসুদুল হক খান।
দশম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বৃহস্পতিবার সকালে দুদক কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলন করে এ কথা বলেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে দুদক সচিব ১০ বছরে এ প্রতিষ্ঠানের অর্জন ও কার্যক্রমের খতিয়ান তুলে ধরেন।
মাকসুদুল হক খান বলেন, এ যাবৎ যতো মন্ত্রী ও সাংসদদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছে তারা সবাই সাবেক। কেননা, বর্তমানদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার নজির এখনো পর্যন্ত নেই। আর আইন মোতাবেক অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে তদন্ত করে শুধুমাত্র চার্জশিট জমা দেয়া পর্যন্তই দুদকের ক্ষমতা সীমাবদ্ধ।
দুদক সচিব সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে, মুক্তিযোদ্ধা সনদ জালিয়াতি প্রসঙ্গে দুদকের কাছে সুনির্দিষ্ট তথ্য-ঘাটতির বিষয়টি তুলে ধরেন।
দুদকের মামলায় অভিযুক্তদের অব্যাহতি পাওয়ার সংখ্যা ক্রমেই বেড়ে যাওয়া সংক্রান্ত প্রশ্নেরও জবাব দেন তিনি।
দুদকের হালনাগাদ কার্যক্রম সম্পর্কে জানতে চাইলে ইতোমধ্যে ৫ জন সাবেক মন্ত্রী ও সাংসদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে বলে জানান দুদক সচিব।
সংবাদ ব্রিফিংয়ে মাকসুদুল হাসান খান বলেন, অক্টোবর মাসে পাওয়া ৭৪৬ অভিযোগের মধ্যে ৫৪টি অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেয় দুদক। এর মধ্যে বিভিন্ন জাতীয় পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে ছয়টি অভিযোগ গ্রহণ করা হয়েছে। অক্টোবরে ২৫টি মামলা দায়েরের অনুমোদন দিয়েছে কমিশন। যার মধ্যে ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তির সংখ্যা ৫০ জন। এদের মধ্যে সরকারি চাকরিজীবী ২২ জন, ব্যবসায়ী তিনজন ও জনপ্রতিনিধি তিনজন রয়েছেন।
সচিবের দেয়া তথ্যমতে, ৩৫টি মামলায় ৮৬ জনকে অভিযুক্ত করে অভিযোগপত্র দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে সরকারি চাকরিজীবী ৩৩ জন, ব্যবসায়ী পাঁচজন ও জনপ্রতিনিধি আট জন রয়েছেন।
দুদকের নয় কর্মকর্তা-কর্মচারীর মুক্তিযোদ্ধা সনদ জালিয়াতির অভিযোগের বিষয়ে অনুসন্ধানকাজ চলছে বলে জানান সচিব।