দক্ষিণ এশিয়ায় বাল্যবিয়ের হার সবচেয়ে বেশি আর বাংলাদেশের অবস্থান শীর্ষে, দেশে বাল্যবিয়ের হার ৬৬ শতাংশ। এর মধ্যে বেশির ভাগ মেয়েশিশুর ১৮ বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই বিয়ে হয়ে যাচ্ছে।
বৃহস্পতিবার জাতিসংঘ শিশু অধিকার সনদের ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে রাজধানীর বিয়াম মিলনায়তনে এক আলোচনা সভায় এ তথ্য উঠে এসেছে।
সরকারের আন্তর্জাতিক পর্যায়ের যে অঙ্গীকার তাতে মেয়েশিশুর বিয়ের বয়স ১৮ থেকে ১৬ তে পিছু হটার কোনো সুযোগ নেই বলে জানিয়েছেন বিশিষ্টজনেরা।
বক্তারা বলেন, এ অঙ্গীকার থেকে সরে আসলে শিশু বিষয়ে বাংলাদেশের যে অর্জন তা বহির্বিশ্বে প্রশ্নবিদ্ধ হবে।
শিশু অধিকারের বিষয়টিকে আলাদাভাবে চিহ্নিত করতে বিশ্ব ভাবনার সঙ্গে তাল মিলিয়ে ১৯৯০ সালে জাতিসংঘ শিশু অধিকার সনদে স্বাক্ষর করে বাংলাদেশ। এরপর শিশু অধিকার রক্ষায় অনেক প্রশংসনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করেছে সরকার। এরইমধ্যে শিশু আইন, শিক্ষার ক্ষেত্রে জেন্ডার সমতা, শিশুনীতি, শিশুদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ কাজের তালিকা প্রণয়ন করা হলেও শিশু অধিকার রক্ষার বিষয়টি এখনো প্রশ্নবিদ্ধ। সম্প্রতি মেয়ে এবং ছেলে শিশুর বিয়ের বয়স ১৮-১৬ এবং ২১-১৮ তে কমিয়ে আনা হবে সরকারের এমন অভিপ্রায়ে বিভিন্নমহল থেকে জোরালো প্রতিবাদ জানানো হয়। এ নিয়ে চলছে নানা বিতর্ক।
চাইল্ড রাইটস অ্যাডভোকেসি কোয়ালিশন আয়োজিত অনুষ্ঠানে আলোচকরা বলেন, শিশুর অধিকার সুরক্ষায় রাষ্ট্রকেই এগিয়ে আসতে হবে। মেয়ে শিশুর বিয়ের বয়স কমিয়ে আনার কোনো সুযোগ নেই বলেও মন্তব্য করেন।
দারিদ্র দূর করার মধ্য দিয়ে শিশুদের অধিকার নিশ্চিত করতে হবে বলে জানান তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু। তবে বিয়ের বয়স ১৮ থেকে ১৬ তে কমিয়ে আনা হবে কিনা এমন প্রশ্নের জবাব এড়িয়ে যান মন্ত্রী।