জনগণকে স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত করার রাজনীতি সরকার করে না; তাদের সেবা করাই সরকারের কাজ–উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, জনগণই সিদ্ধান্ত নেবে তারা কাকে ভোট দেবেন। শনিবার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের আউটডোর কমপ্লেক্স উদ্বোধন শেষে তিনি এ কথা বলেন।
চিকিৎসকদের গবেষণায় মনোনিবেশের তাগিদ দিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, নতুন নতুন রোগ মোকাবেলায় সক্ষমতা অর্জন করতে হবে। স্বাস্থ্যখাতকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে সুযোগ-সুবিধা বাড়াতে কাজ করছে সরকার।
তিনি বলেন, প্রত্যেক নাগরিকের ভোট দেয়া তাদের সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত অধিকার। কাকে ভোট দিচ্ছে এ দিক বিবেচনা করে স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করা যাবেনা। স্বাস্থ্য সেবা পাওয়াটা সবার মৌলিক অধিকার। এক্ষেত্রেও আমরা কোনো রাজনীতি করিনি।
উন্নত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে প্রতিটি জেলায় মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের ঘোষণাও দেন শেখ হাসিনা।
তিনি বলেন, আমাদের সরকারের ঐকান্তিক প্রচেষ্টার কারণে মোবাইল ফোন প্রযুক্তির মাধ্যমে স্বাস্থ্য সেবা মানুষের দ্বোরগোড়ায় পৌঁছাতে সক্ষম হয়েছি।
জনগণের চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করার পাশাপাশি চিকিৎসকদের গবেষণায়ও মনোনিবেশের তাগিদ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, চিকিৎসাসেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌছে দিতে উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে হাসপাতালগুলোয় সুযোগ-সুবিধা বাড়ানো হচ্ছে।
তিনি আরো বলেন, ঢাকা শহরের মানুষ শুধু মাত্র ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপর নির্ভরশীল ছিল। তবে মহানগরী উত্তর-দক্ষিণের আনুপাতিক হারে জনগণের সেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে হাসপাতাল ও স্বাস্থ্য কেন্দ্র স্থাপন করেছি।
এছাড়াও প্রতিবন্ধী ও অটিষ্টিক শিশুদের সম্পর্কে জনগণের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে সকলকে সচেষ্ট হওয়ার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ সময় চট্টগ্রাম ও রাজশাহীতে নতুন ২টি মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনেরও ঘোষণা দেন তিনি।
এর আগে দেশের মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে প্রায় ৭৮ কোটি টাকা ব্যয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে নির্মাণ করা হয় ২টি আউটডোর কমপ্লেক্স উদ্বোধন করেন শেখ হাসিনা। পরে উদ্বোধন শেষে বিশ্ববিদ্যালয় মিলনায়তনে এক অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীকে সম্মাননা দেয়া হয়।