দেশের আদালতসমূহে বিচারাধীন বিভিন্ন ফৌজদারী ও দেওয়ানী মামলাগুলো দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে বর্তমান সরকার বিভিন্ন কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হক।
সোমবার সংসদে সরকারি দলের বেগম সানজিদা খানমের এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, বিচারকের শূন্য পদসমূহ পূরণ এবং মামলার সংখ্যাধিক্য বিবেচনা করে আরো অধিক সংখ্যক বিচারক নিয়োগের ব্যবস্থা গ্রহণের পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে।
আইনমন্ত্রী বলেন, বিকল্প পদ্ধতিতে বিরোধ নিষ্পত্তির বিধানটি বাধ্যতামূলকভাবে প্রয়োগ করা এবং যথাসময়ে সমন ইস্যু ও জারি করা, যোগাযোগ প্রযুক্তির উন্নতির ফলে সমন ইস্যু ও জারির বিদ্যমান পদ্ধতির পাশাপাশি ফ্যাক্স, ই-মেইল এবং কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে সমন ইস্যুর বিধান রেখে আইন প্রণয়ন করা হয়েছে। বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি বিধিমালা প্রণয়ন ও প্রকাশের কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
তিনি বলেন, তাছাড়া ফৌজদারী মামলাসমূহ দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে আইন ও বিচার বিভাগের সলিসিটর উইংয়ের সলিসিটরের নেতৃত্বে মনিটরিং সেল গঠন করা হয়েছে। যে সকল জেলা অধিকসংখ্যক ফৌজদারী মামলা বিচারাধীন রয়েছে সে সকল জেলায় মতবিনিময় সভা করা হয়েছে।
মন্ত্রী বলেন, বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তির মাধ্যমে দেওয়ানী ও আপোষযোগ্য ফৌজদারী মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে বিচারক এবং আইনজীবীদেরকে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়েছে। ফৌজদারী মামলাসমূহ দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে মনিটরিং সেলের কার্যক্রম ফলদায়ক হলে দেওয়ানী মামলা নিষ্পত্তির ক্ষেত্রেও অনুরূপ মনিটরিং সেল গঠন করা হবে।
তিনি বলেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে চাঞ্চল্যকর ও গুরুত্বপূর্ণ ফৌজদারী মামলাসমূহ মনিটরিং সেল কর্তৃক সমন্বয়ের মাধ্যমে দ্রুত নিষ্পত্তির ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
সরকারি দলের মুহিবুর রহমান মানিকের এক প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেন, সারাদেশের নিম্ন আদালতে বিচারাধীন মামলার জট কমানোর জন্য সারাদেশের বিচারক ও বিভিন্ন আদালতের সহায়ক কর্মকর্তা ও কর্মচারীর শূন্য পদে নিয়োগ প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। বিভিন্ন আদালতে বিচারাধীন দেওয়ানী মামলাসমূহ কমসময়ে ও স্বল্প খরচের নিষ্পত্তি করার লক্ষ্যে বাধ্যতামূলক বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি (এডিআর) পদ্ধতির বিধান সংযোজন করা হয়েছে।
তিনি বলেন, এছাড়া বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট এবং প্রকল্পভুক্ত আদালতসমূহের দৈনিক কার্যতালিকা ওয়েবসাইটে প্রকাশ এবং আদালতসমূহের সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টেও ইউএনডিপি’র আর্থিক সহায়তায় জুডিশিয়াল স্ট্রেংদেনিং শীর্ষক একটি কারিগরি সহায়তা প্রকল্প বাস্তবায়নাধীন রযেছে।
সরকারি দলের মোঃ আনোয়ারুল আজীমের (আনার) এক প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেন, দেওয়ানী বিরোধ নিষ্পত্তি বাধ্যতামূলক করার লক্ষ্যে দেওয়ানী কার্যবিধি, ১৯০৮ এ বিকল্প পদ্ধতিতে বিরোধ নিষ্পত্তির বিধানটিকে বাধ্যতামূলক বিধান হিসাবে সন্নিবেশিত করে জনগণকে মামলার দীর্ঘসূত্রিতা, হয়রানি ও অহেতুক কালক্ষেপণ থেকে রক্ষার জন্য আইন প্রণয়ন করা হয়েছে।
তিনি বলেন, এছাড়া এসআরও নং-১৯৪-আইন/২০১৪ মূলে প্রণীত আইনগত সহায়তা প্রদান নীতিমালা, ২০১৪ এর ৩নং অনুচ্ছেদ সরকারি আইনগত সহায়তা কর্মসূচির আওতায় জেলা লিগ্যাল এইড অফিসারের মাধ্যমে যে কোন ব্যক্তিকে যে কোন মামলার বিকল্প পদ্ধতিতে বিরোধ নিষ্পত্তির ক্ষমতা প্রদান করা হয়েছে। এ আইনের আওতায় একটি বিধিমালা প্রণয়নের কাজ এগিয়ে চলছে। যথাশীঘ্র সম্ভব তা প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া সম্পাদন করে প্রকাশের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
আইনমন্ত্রী সরকারি দলের মোরশেদ আলমের অপর এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, সারা দেশে বর্তমানে২৮ লাখ মামলা নিষ্পত্তির অক্ষোয় রয়েছে। এসব মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে অন্যান্য পদক্ষেপের পাশাপাশি প্রধান বিচারপতির উদ্যেগে দেশের সকল জেলা জজ ও মহানগর দায়রা জজ আদালতে কেস ম্যানেজমেন্ট কমিটি গঠন করা হয়েছে। সূত্র বাসস।