ভারতের সাথে আলোচনাপূর্বক তিস্তা নদীর পানিবন্টন চুক্তি স্বাক্ষরের প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে জানিযেছেন পানি সম্পদ মন্ত্রী আনিসুল ইসলাম মাহমুদ।
সোমবার সংসদে সরকারি দলের মোয়াজ্জেম হোসেন রতনের এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী আরও বলেন, ২০১০ সালের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফরকালে শুকনো মৌসুমে তিস্তা নদীর পানি স্বল্পতার কারণে ভারত-বাংলাদেশের দুর্ভোগের কথা বিবেচনায় নিয়ে জরুরিভিত্তিতে তিস্তা নদীর পানিবন্টন বিষয়ে সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়া প্রয়োজন মর্মে যৌথ ইশতেহারে উল্লেখ করা হয়। দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর দিকনির্দেশনার ফলশ্রুতিতে, তিস্তা নদীর অন্তর্বর্তীকালীন পানি বন্টন চুক্তির ফ্রেমওয়ার্ক চূড়ান্ত করা হয়েছে।
পানি সম্পদ মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে অভিন্ন ৫৪টি নদ-নদীর পানি বণ্টন ও ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে পানি সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহার করে জনগণের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার বিষয়ে সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।
তিনি বলেন, নদীমাতৃক বাংলাদেশের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত প্রায় ৪০৫টি নদীর মধ্যে ৫৭টি হচ্ছে আন্তঃসীমান্ত নদী। আন্তঃসীমান্ত নদীগুলোর মধ্যে ৫৪টি ভারত থেকে বাংলাদেশে প্রবেশ করছে এবং ৩টি এসেছে মায়ানমার থেকে। ৫৪টি নদীর অধিকাংশই তিনটি বৃহৎ নদী গঙ্গা, ব্রহ্মপুত্র এবং মেঘনার অববাহিকাভুক্ত।
আনিসুল ইসলাম মাহমুদ বলেন, এ তিনটি নদীর অববাহিকার আয়তন ১ দশমিক ৭২ মিলিয়ন বর্গকিলোমিটার, যার মাত্র ৭ শতাংশ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে অবস্থিত।
মন্ত্রী বলেন, দেশের পানি সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহার করে জনগণের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে বিভিন্ন আন্তঃসীমান্ত নদীর পানি বণ্টন একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। পানি বণ্টনের মাধ্যমে প্রাপ্ত পানি নদীর নাব্যতা বজায় রাখার পাশাপাশি কৃষি, পৌর ও গৃহস্থালি, শিল্প, মৎস্য উৎপাদন, ভূ-গর্ভস্থ পানি পুনর্ভরণ, জীব-বৈচিত্র্য রক্ষা এবং সামগ্রিক পরিবেশ ও আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে যথাযথ ভূমিকা রাখে।
তিনি বলেন, ১৯৯৬ সালে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকার ক্ষমতায় আসার ৬ মাসের মধ্যে ১২ ডিসেম্বর বাংলাদেশ ও ভারত সরকারের মধ্যে ঐতিহাসিক ফারাক্কায় গঙ্গা নদীর প্রবাহ বণ্টনের লক্ষ্যে ৩০ বছর মেয়াদী একটি ঐতিহাসিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। পরবর্তীতে ২০০৯ সালে ক্ষমতায় আসার পর একইভাবে তিস্তা চুক্তি স্বাক্ষরের বিষয়ে সর্বোচ্চ গুরুত্ব প্রদান করে বিভিন্ন পর্যায়ে ভারতের সাথে আলোচনা শুরু করে। এ চুক্তি স্বাক্ষরের প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। সূত্র বাসস।