দক্ষিণ এশিয়ার মানুষের জীবনে পরিবর্তন আনতে এবং সার্ককে গতিশীল করে এ জোটকে ‘জনগণের সার্ক’ এ রূপান্তরে সব মতপার্থক্য দূরে ঠেলে যৌথ সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেষ হাসিনা।
বুধবার নেপালে কাঠমান্ডুর সিটি হল-রাষ্ট্রীয় সভাগৃহে 'শান্তি ও সমৃদ্ধির জন্য আরও ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক'- এ প্রতিপাদ্য সামনে রেখে ১৮তম সার্ক শীর্ষ সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে দেয়া ভাষণে তিনি এ কথা বলেন।
দক্ষিণ এশিয়ার মানুষের জীবনে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন, দারিদ্র্য বিমোচন এবং খাদ্য-পুষ্টি নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারে সদস্য রাষ্ট্রগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
জ্বালানি খাতের উন্নয়নে পারস্পরিক সহযোগিতার পাশাপাশি সার্কভুক্ত অঞ্চলে বাণিজ্য বাড়াতে সদস্য দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানান শেখ হাসিনা।
এছাড়া সার্কভুক্ত দেশগুলোর মানুষের ভাগ্যেন্নয়নে সার্ককে আরো গতিশীল ও কার্যকর করার আহ্বান জানিয়ে বাংলাদেশে তার সরকারের নেয়া বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের কথা তুলে ধরেন তিনি।
লিখিত বক্তব্যে শেখ হাসিনা বলেন, সার্কভুক্ত দেশগুলোতে দারিদ্র্য দূরীকরণ ও সবার জন্য প্রয়োজনীয় পুষ্টি নিশ্চিত করার ওপর মনযোগি হওয়া প্রয়োজন।
দারিদ্র্য দূরীকরণে বাংলাদেশ সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করে তিনি বলনে, এসব পদক্ষেপের ফলে বর্তমানে বাংলাদেশে দারিদ্র্যের হার ২৪.৪% নামিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে।
সার্ক অঞ্চলের সব জনগণের জন্য খাদ্য নিশ্চিত করণের লক্ষে সার্ক ফুড ব্যাংক ও সিড ব্যাংক নির্মণে গুরুত্বারোপ করেন প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক ও রাজনৈতিক ক্ষেত্রে নারীর ক্ষমতায়নের কথা উল্লেখ করে আঞ্চলিক ক্ষেত্রে নারীর ক্ষতায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। পুরুষের সঙ্গে জীবনের সর্বস্তরে তাদের সমান অংশগ্রহণ টেকসই উন্নয়নের জন্য অপরিহার্য বলেও জানান শেখ হাসিনা।
সার্ক অঞ্চলে রয়েছে বিপুলসংখ্যক তরুণ জনসংখ্যা— উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মানসম্পন্ন শিক্ষা ও কার্যকর প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তাদের প্রাথমিকভাবে মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তোলা প্রয়োজন।
বাংলাদেশে শিক্ষার উন্নয়নের ওপর আলোকপাত করে তিনি আরো বলেন, সবার জন্য শিক্ষা নিশ্চিতকরণে নতুন নতুন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। মেয়েরা এখন বিনা বেতনে শিক্ষা পাচ্ছে। দরিদ্র পরিবারগুলোর ১২.৮ মিলিয়ন ছাত্র-ছাত্রী মাসিক স্টাইপেন্ড পাচ্ছে। এদের মধ্যে ৭৫%মেয়ে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০২১ সালের মধ্যে ডিজিটাল বাংলাদেশ গঠনের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে দেশব্যাপী ৫ হাজার ২৭৫টি ডিজিটাল সেন্টার প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। এসব সেন্টার থেকে গ্রামীণ জনগণ প্রায় ২০০ ধরনের আইসিটি সম্পর্কিত সেবা পাচ্ছে। তারা আইটি সংযুক্ত ১৩ হাজার ৫শ কমিউনিটি ক্লিনিক থেকে বিনামূল্যে ওষুধসহ স্বাস্থ্য সেবাও পাচ্ছে বলে জানান তিনি।
তিনি আরো বলেন, জলবায়ূ পরিবর্তন জনিত ঝুঁকি কার্যকর ও ব্যাপকভাবে মোকাবেলায় তার সরকার একটি জাতীয় জলবায়ূ পরিবর্তন কৌশল ও একটি জাতীয় কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।
আঞ্চলিক যোগাযোগ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দক্ষিণ এশিয়ার সার্বিক শান্তি, অগ্রগতি ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিতের জন্য যোগাযোগ অবকাঠামো খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
ভ্রীকুটি মণ্ডপে রাষ্ট্রীয় সভাগৃহে শীর্ষ সম্মেলনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট ও সার্কের বিদায়ী চেয়ারপারসন আবদুল্লাহ ইয়ামিন আবদুল গাইয়ুম। তার সঙ্গে নেপালের প্রধানমন্ত্রী সুশীল কৈরালা প্রদীপ প্রজ্বালন করেন।