স্কুলছাত্রী ফারজানার হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবিতে শুক্রবার রাজধানীর ভাটারা এলাকায় সড়ক অবরোধ ও মানববন্ধন করেছে এলাকাবাসী। এ সময় পুলিশ ও অবরোধকারীদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া হয়।
বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট পাটকেল ছোড়ে ও সড়কে গাড়ি ভাঙচুড়ের চেষ্টা করে। পরিস্থিতি সামাল দিতে লাঠিচার্জ করে পুলিশ।
গত ২৫ নভেম্বর রাজধানীর ভাটারা থানাধীন ছোলমাইদ এলাকার এক’শ ফুট সড়কের পাশের জলাশয় থেকে বস্তাবন্দি অবস্থায় স্কুলছাত্রী ফারজানা আক্তারের মৃতদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। মৃতদেহের গলায় কালো দাগ ও দুই হাত গেঞ্জির কাপড়ে বাঁধা ছিল। এর আগের দিন বিকেলে স্থানীয় একটি দোকানে পেনসিল কিনতে গিয়ে সে আর ফিরে আসেনি। তার খোঁজে এলাকায় মাইকিং করে তার পরিবারের সদস্যরা, পরিচিতরাও তার কোনো সন্ধান দিতে পারনি । ওই রাতে ভাটারা থানায় একটি মামলা দায়ের করেন নিহতের বাবা।
চারদিন পেরিয়ে গেলেও পুলিশ দোষীদের গ্রেপ্তার করতে না পারায় নিহত ফারজানার স্কুল ছোলমাইদ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ও এলাকাবাসী আজ সকাল ১০টার দিকে ভাটারা থানার কাছেই খুনিদের গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবিতে মানববন্ধন ও সড়ক অবরোধ করে। পুলিশ হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের আশ্বাস দিলে কিছু সময়ের জন্য পরিস্থিতি শান্ত হয়।
এরপর দ্বিতীয় দফায় এলাকাবাসী ভাটারা থানা ঘেরাও করতে গেলে পুলিশের সঙ্গে এলাকাবাসীর ধাওয়া- পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এসময় অবরোধকারীরা টায়ার জ্বালিয়ে উভয় পাশের সড়ক বন্ধ করে যানবাহন ভাঙচুরের চেষ্টা চালায়। পুলিশ তাদের সরিয়ে দেয়ার চেষ্টা করলে তাদের লক্ষ্য করে ইট পাটকেল ছোড়ে এলাকাবাসী।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে একপর্যায়ে এলাকাবাসীর ওপর লাঠিচার্জ করে পুলিশ। পরে তাদের ছত্রভঙ্গ করতে টিয়ারশেল ও জলকামান ব্যবহার করে পুলিশ। এতে অবরোধকারীদের কয়েকজন আহত হয়। তাদের অভিযোগ, পুলিশের গাফলতির কারণে খুনিরা গ্রেপ্তার হচ্ছে না।
তবে, পুলিশ বলছে এরই মধ্যে এ হত্যার ঘটনায় সন্দেহভাজন হিসেবে বাড়িওয়ালার ছেলে সৌরভকে আটক করা হয়েছে। তাকে রিমান্ডে নিলেই এ ঘটনায় তার সম্পৃক্ততা আছে কি না- সে ব্যাপারে নিশ্চিত হওয়া যাবে।